টাকা না নেওয়ায় পোলিং অফিসারকে মারধর!

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ০৪:২৩ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরায় টাকা না নেওয়ার অজুহাতে এক সরকারি পোলিং অফিসারকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিকে নগর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্বাচন শেষে অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তবে সোমবার দুপুরে এব্যাপারে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন।

আহত আবু সাঈদ মিয়া উপজেলার বড় গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সরকারি পোলিং অফিসার ও ২৫ নম্বর বিকে নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল জাজিরা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। সেই নির্বাচনে মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজী (মোটরসাইকেল প্রতীক) ও এসএম আমিনুল ইসলাম রতনসহ (ঘোড়া প্রতীক) পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিকে নগর বাজারের একটি দোকানে বসে ছিলেন আবু সাঈদ। তখন তাকে ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ উঠে বিকে নগর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদার, আব্দুল আলী সরদার ও মজিবুরসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে আবু সাঈদ প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

পোলিং অফিসার আবু সাঈদ মিয়া বলেন, আমার বাড়ি কাছে বিকে নগর বাজার। সেই বাজারের একটি দোকানে আমি বসে ছিলাম। তখন আমাকে একলোক বাজারে পাশে ডেকে নেয়। সেখানে গেলে স্থানীয় আব্দুল আলী সরদারসহ কয়েকজন আমাকে বকাঝকা শুরু করে। আর বলে, তুই নাওডোবা গিয়ে ঘোড়ার ভোট চাইছস কেন? আমি তখন বলি আমি এমন কোনো কাজ করিনি, কোথাও যাইনি। পরে তারা বলে, তোরা কেন্দ্রে কেউ ভোট দিতে যাইতে পারবি না। বাড়ির কেউ যেন না যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই বিকে নগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদার এসেই আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি মাটিতে পরে যাই। তারপরও আমাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারে সাবেক চেয়ারম্যানসহ আরও কয়েকজন। আমি একজন শিক্ষক, তাই শিক্ষক সমিতির সঙ্গে কথা বলেছি। এ ব্যাপারে নির্বাচন গেলে অভিযোগ হবে।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজীর পক্ষে কাজ করার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারে টাকা দিতে আসেন তার কর্মী-সমর্থকরা। আমরা টাকা না নেওয়ায় আমাকে এভাবে মারধর করল।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থক ও বিকে নগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদার অস্বীকার করে বলেন, তার সঙ্গে আমাদের কারও এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এদিকে, মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম আমিনুল ইসলাম রতন বলেন, মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজী তাঁর পোস্টারে নৌকা প্রতীকের ব্যাস লাগিয়েছেন। তার ব্যানারে সাবেক মেয়র অধ্যাপক হক কবিরাজের ছবি ব্যবহার করেছেন, যা আচারবিধি লঙ্ঘন। উপজেলা সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা তার এইসব পোস্টার-ব্যানার অপসারণ করতে বললেও তিনি করেননি। এখন আবার সরকারি পোলিং অফিসারকে মারধর করেছেন। তাই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ বজায় রাখার সার্থে আমি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম লুনা বলেন, সরকারি পোলিং অফিসারকে মারধরের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। তবে চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রতন একটি অভিযোগ করেছেন, দেখেছি। সেই অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত