বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘আমি দিল্লিতে পৌঁছেছি, ফোন করার দরকার নেই’

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ০৪:৪৬ পিএম

ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার তার পরিচিত ভারতের গোপাল বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তিকে বলেছেন, ‘আমি দিল্লিতে পৌঁছেছি। আমার সাথে ভিআইপিরা আছেন। ফোন করার দরকার নেই’।

সম্প্রতি ভারতে চিকিৎসার জন্য যান আনোয়ারুল আজিম। এরপর মোবাইল ফোন নম্বর বা অন্য কোনো মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা।

গত ১২ মে পশ্চিমবঙ্গের বরানগর থানার গোপাল বিশ্বাস নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বাড়িতে ওঠেন এমপি আনার। জানা যায়, গোপালের সঙ্গে তার প্রায় পঁচিশ বছরের সম্পর্ক।

গোপাল বরানগর থানায় জানিয়েছেন, পরদিন অর্থাৎ ১৩ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন এমপি। চিকিৎসকের কাছে যাবেন বলে নিজেই গাড়ি ঠিক করেন। গোপালের পরিবারের গাড়ি তিনি ব্যবহার করেননি। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে হদিস মিলছে না আনারের।

ডায়েরিতে গোপাল বিশ্বাস বলেছেন, গত ১২ মে সন্ধ্যা ৭টার সময় আমার বাড়িতে এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে আসেন। পরদিন দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে আমার বাড়ি থেকে রওনা হয়ে যান। যাওয়ার সময় বলে যান, ‘আমি দুপুরে খাব না, সন্ধ্যায় ফিরে আসব’। তারপর উনি সন্ধ্যাবেলা না ফিরে, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে জানান, ‘আমি বিশেষ কাজে দিল্লিতে চলে যাচ্ছি। ফোন করব, তোমাদের ফোন করার দরকার নেই’। এরপর ১৫ মে বেলা ১১টা ২১ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে জানান, ‘আমি দিল্লিতে পৌঁছেছি। আমার সাথে ভিআইপিরা আছেন। ফোন করার দরকার নেই’। এই একই মেসেজ নিজের বাড়িতে এবং নিজের পিএকেও ফরওয়ার্ড করেছিলেন তিনি।

থানার ডায়েরিতে গোপাল আরও বলেন, গত ১৬ মে সকালবেলা এমপির পিএ ফোন করলেও তা রিসিভ করেননি তিনি। পরে কলব্যাকও করেননি। এরপর ১৭ মে এমপির মেয়ে আমাকে ফোন করে বলেন, ‘আমার বাবার সাথে কোনোভাবে যোগাযোগ করতে পারছি না’। এরপরই আমি ওনার যাবতীয় পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং সবাই তারপর থেকে ওনাকে ফোনকল করেও সাড়া পাচ্ছেন না। সে কারণেই আমি বরানগর থানায় মিসিং ডায়েরি করছি।’

এ বিষয়ে ব্যারাকপুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অনুপম সিং বলেন, সাধারণত মিসিং ডায়েরিতে প্রাথমিকভাবে যেভাবে তদন্ত শুরু হয়, সেভাবেই শুরু হয়েছে। যেহেতু তিনি ফরেনার (বিদেশি) এবং একজন এমপি, সে কারণে আমরা সম্পূর্ণ বিষয়টি কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসকে জানিয়েছি। তবে এর চেয়ে বিশেষ কিছু বলা যাবে না।

এদিকে ঢাকায় এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন তার বাবার খোঁজ পেতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দ্বারস্থ হয়েছেন। রবিবার (১৯ মে) বিকেলের দিকে তিনি মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে যান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত