মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কুমিল্লায় ভোটের মাঠে দুই মন্ত্রীর স্বজনরা, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ০৮:১৯ পিএম

৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ ও বরুড়া উপজেলা অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দ্বিতীয় ধাপের এই নির্বাচকে উভয় উপজেলার ভোটাররা মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছেন। একদিকে আছেন বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রীর আত্মীয় ও সাবেক এক মন্ত্রীর ভাই। আরেক দিকে ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা। তাদের পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছেন সংসদ সদস্যরাও।

সদর দক্ষিণ

সদর দক্ষিণ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। তারা হলেন সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টানা তিনবারের চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার (কাপ-পিরিচ), কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও টানা তিনবারের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হাই ওরফে বাবলু (হেলিকপ্টার) এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান রিপন (আনারস)। যদিও ভোটের মাঠে লড়াই হবে সারোয়ার-বাবলুর সঙ্গে।

সারওয়ার হচ্ছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামালের আপন ছোট ভাই। সারওয়ারের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন সাবেক অর্থমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা। এ উপজেলায় সুষ্ঠু ভোটে শঙ্কা প্রকাশ করছেন করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা।

এ বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল হাই বাবলু বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করছি। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে শুরু। রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী। এই এলাকার মানুষ পরিবর্তন চায়, উন্নয়ন চায়। দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই নির্বাচন করছেন। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনে শঙ্কা প্রকাশ করছি।

চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম সারওয়ার বলেন, আমরা শান্তির রাজনীতি করি। কুমিল্লা মহানগরের সংসদ সদস্য বাহাউদ্দীন প্রত্যক্ষভাবে আব্দুল হাই বাবলুর পক্ষে সমর্থন দিয়ে তার কর্মীদের মাঠে নামিয়েছেন। ভোটের দিন বহিরাগতমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ চাই।

বড়ুয়া উপজেলা

বরুড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। তারা হলেন এ এন এম মইনুল ইসলাম (হেলিকপ্টার), হামিদ লতিফ ভূঁইয়া ওরফে কামাল (আনারস) ও মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ওরফে লিংকন (মোটরসাইকেল)। যদিও নিষ্ক্রিয় ভোটের মাঠে রয়েছেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ওরফে লিংকন। অপরদিকে এ এন এম মইনুল ইসলাম ও হামিদ লতিফ ভূঁইয়া ওরফে কামাল ভোটের মাঠে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। হামিদ লতিফ ভূঁইয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের স্যালক ও তার পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন শামীমের সমর্থন থাকায় ভোটের শঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনিও।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী এ এন এম মইনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ দিয়ে আমার নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছেন। আমাকে আটকানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়েছেন। সুষ্ঠু ভোট হলে আমি জিতবে ইনশাআল্লাহ।

চেয়ারম্যান প্রার্থী হামিদ লতিফ ভূঁইয়া বলেন, আমি কাউকে হয়রানি করছি না। কারও নাম ব্যবহার করছি না। বরুড়ার মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য আমাকে ভোট দেবেন। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের নাম আমি কোনো ধরনের প্রচারণায় ব্যবহার করছি না।

কুমিল্লা জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান বলেন, আমরা কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেব না। এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে অস্বধারী ৪ জন পুলিশ ও ৪ জন আনসর দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া লাঠিধারী ১০ জন করে আনসার ভিডিপির সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত