প্রকাশ্যে ভোট, ভিডিও করায় ৬ সাংবাদিককে পেটাল চেয়ারম্যান সমর্থকরা

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ০৪:৩৬ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরার একটি কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট দিচ্ছিল মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইদ্রিস ফরাজীর কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় ভিডিও করতে গিয়ে তাদের হামলায় আহত হয়েছেন ৬ সাংবাদিকসহ অন্তত ৯ জন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে জাজিরা সেনের চর ফরাজী দারুস সুন্নাহ নূরানী হাফেজিয়া কাওমীয়া মাদরাসা ও এতিমখানা কেন্দ্রে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জাজিরা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে এস এম আমিনুল ইসলাম রতন (ঘোড়া প্রতীক) ও ইদ্রিস ফরাজীসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

এদিন জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি পলাশ খান, সহসভাপতি বরকত মোল্লা, দৈনিক কালবেলার ভেদরগঞ্জ প্রতিনিধি আশিকুর রহমান হৃদয়, সানজিদ মাহমুদ সুজন, রুহুল আমিনসহ সাংবাদিকদের একটি দল ফরাজী দারুস সুন্নাহ নূরানী হাফেজিয়া কাওমীয়া মাদরাসা ও এতিমখানা কেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহে যান। 

সে সময় ইদ্রিস ফরাজীর কর্মী-সমর্থকরা বুথের কাপড় সরিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দিচ্ছিল। ঘটনাটির ভিডিও করতে গেলে ইদ্রিস ফরাজীর সমর্থক বিপ্লবসহ ২৫/৩০ জন কর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ৬ সাংবাদিকসহ ৯ জন আহত হন।

আহত জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি পলাশ খান বলেন, সংবাদ সংগ্রহের জন্য কেন্দ্রটিতে গেলে দেখতে পাই চেয়ারম্যান প্রার্থী ইদ্রিস ফরাজীর কর্মী-সমর্থকরা বুথের কাপড় সরিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দিচ্ছিল। এ সময় আমরা ভিডিও করতে গেলে তারা আমাদের জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলে। পরে আরেক জায়গায় নিয়ে মারধর করে। এ হামলার তীব্র নিন্দা ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ৬ জন সাংবাদিক আহত হয়ে আমাদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসে। এরমধ্যে চারজন গুরুতর আহত। তাদের ভর্তি করা হয়েছে। দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পলাশ খান নামে একজনের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক, তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অবস্থা খারাপ হলে ঢাকায় রেফার করা হবে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিক আহতের ঘটনায় অভিযোগ পেলে মামলা হবে।

জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সাংবাদিকরা অভিযোগ করলে তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত