শরীয়তপুরের জাজিরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় ককটেলের আঘাতে জাবেদ শেখ (২০) নামের এক তরুণের কবজি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়।
আজ রবিবার সকালে উপজেলা বিলাসপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত জাবেদ শেখ উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগআলী বেপারী কান্দি এলাকার দিপু শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কুদ্দুস বেপারী ও বিলাসপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই নিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে দুই পক্ষ। শনিবার রাতে ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজার এলাকায় কুদ্দুস বেপারীর সমর্থক মান্নান বেপারী এবং জলিল মাদবরের সমর্থক নাসির বেপারীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রবিবার সকালে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় দুই শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হাতবোমার আঘাতে জাবেদ শেখের বাম হাতের কবজি ক্ষতবিক্ষত হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তানভীর আহমেদ বলেন, জাবেদ শেখ নামে এক যুবকের ককটেলের আঘাতে বাম হাতের কবজি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এ ছাড়া তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, কুদ্দুস বেপারী ও জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষ প্রায় দুই শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এক তরুণ আহত হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন এলাকা শান্ত রয়েছে। এখনও মামলা হয়নি এবং কেউ আটক হয়নি।
তিনি বলেন, জলিল মাদবর বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আর কুদ্দুস বেপারী জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে আছেন।
