ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রোকসানা ইসলাম চামেলীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) তাকে বরখাস্ত করে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি-করপোরেশন-১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত আসন-৫ (সাধারণ ওয়ার্ড নং ১৩, ১৯ ও ২০) এর কাউন্সিলর সৈয়দা রোকসানা ইসলাম চামেলীকে করপোরেশন সভায় অশোভন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করায় সভার কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়া, প্রায়ই এ জাতীয় আচরণে লিপ্ত থাকা, তার এহেন অসদাচরণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে তার স্বীয় পদ হতে অপসারণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ ধারা ১৩ এর উপধারা (৩) এর অধীন কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়েছে। সৈয়দা রোকসানা ইসলাম চামেলীকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ ধারা ১২ এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী তার স্বীয় পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
গত ২২ এপ্রিল নারী কাউন্সিলর রোকসানা ইসলাম চামেলীর একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২৪ এপ্রিল তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ।
প্রসঙ্গত, গত ২০ মে নগর ভবনে ডিএসসিসির বোর্ড সভায় মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সামনেই ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ রতনকে জুতাপেটা করেন চামেলী।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল এই নারী কাউন্সিলরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সে ঘটনার জেরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে চামেলীকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। তবে এ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ, তিনি রেলের শতকোটি টাকার জমি দখল করে রেখেছেন।
ডিএসসিসির কাউন্সিলররা বলছেন, গুলিস্তান, পল্টন, আনন্দবাজার এলাকায় ফুটপাতে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অঘোষিত দ্বন্দ্ব চলছিল।
এ ছাড়া আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর পেছনে রতনকে সন্দেহ করে আসছিলেন রোকসানা ইসলাম চামেলী। হয়তো এসব কারণেই জুতাপেটার এমন ঘটনা ঘটেছে।