শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এমপি আনারের হাড় ও মাংস আলাদা করে হলুদের গুঁড়ো মেশানো হয়

আপডেট : ২৪ মে ২০২৪, ১১:৫৩ এএম

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য। তদন্তকারীদের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সোনা চোরাচালান ও হুন্ডির দেড়শ কোটি টাকার বিরোধের জের ধরে সংসদ সদস্য (এমপি) আনারকে খুন করা হয়েছে। ছয় মাস আগে রাজধানীতে খুন ও লাশ গুমের বিস্তারিত পরিকল্পনা হয়। 

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, সংসদ সদস্য ১২ মে কলকাতায় যাওয়ার পরের দিনই পরিকল্পনাকারীরা ব্যবসার কথা বলে নিউটাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। ওই পরিকল্পনাকারী তার বাল্যবন্ধু আক্তারুজ্জামান শাহীন। আনার কলকাতায় যাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে থেকেই শাহীন কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। ফ্ল্যাটে প্রবেশের ৩০ মিনিটের মাথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে মিনিট-দশেক চোরাচালানসহ নানা বিষয় নিয়ে শাহীন ও আনারের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। ওই সময় শাহীন অশ্লীল ভাষায় আনারকে গালাগাল করেন। তখন খুলনা অঞ্চলের চরমপন্থি ক্যাডার আমানুল্লাহ তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আরও চারজন আনারের হাত-পা বেঁধে ফেলে বালিশচাপা দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। ১০ মিনিটের মধ্যেই তিনি মারা যান।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় তথ্য পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, বাঁচার জন্য আনার আকুতি-মিনতি করলেও খুনিদের মন গলেনি। হত্যাকাণ্ডের পরপরই শাহীন ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান। বাকি সবাই মিলে আনারের লাশ কয়েক টুকরো করে হাড় থেকে মাংস আলাদা করে ফেলেন। ট্রলি ব্যাগে ঢুকিয়ে লাশ গুম করেন। হত্যাকাণ্ডের সময় কলকাতার কয়েকজন খুনি ঘটনাস্থলে অবস্থান করেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তাদের নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়। 

ডিবিপ্রধান বলেন, তাকে হত্যার পর শরীর খণ্ড খণ্ড করা হয়। হাড় ও মাংস আলাদা করে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যাগে ভরে ওই বাসা থেকে বের করা হয়। কোথায় খণ্ড খণ্ড মরদেহ ফেলা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। খুনিরা দুই মাস ধরে খেয়াল রাখছেন কখন আনারকে কলকাতায় আনা যাবে। গত ১২ মে আনার বন্ধু গোপালের বাসায় যান। সেখানে আরও দুজনকে ভাড়া করা হয়। তারা ওই বাসায় আসা-যাওয়া করবে। তারা হলেন জিহাদ ওরফে জাহিদ ও সিয়াম। গাড়ি ঠিক করেন পরিকল্পনাকারী। কাকে কত টাকা দিতে হবে, কারা কারা হত্যায় থাকবেন, কার দায়িত্ব কী হবে। তবে কাজ আছে বলে ১০ মে বাংলাদেশে চলে আসেন এক ঘাতক।

তিনি বলেন, পরিকল্পনাকারীরা গুলশান-২ ও ভাটারার এলাকার দুটি বাসায় দফায় দফায় বৈঠক করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন। তারা জানতেন বাংলাদেশে খুন করলে ধরা পড়তে হবে, তাই হত্যাকাণ্ডের জন্য অপরাধীরা কলকাতাকে বেছে নেন। তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। ভারতীয় পুলিশ গাড়ির চালক রাজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মরদেহ পুরোপুরি না পেলেও অংশবিশেষ পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছেন ডিবিপ্রধান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত