শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ব্যাংকগুলোতেও কমছে ডলার রিজার্ভ

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ১২:৩১ এএম

বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকাতে নানা কৌশল ও পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি আইএমএফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নানান শর্তে ধার করেও রিজার্ভের পতন ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয়, রিজার্ভ কমছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ের পর ৯ মাসে ব্যাংকগুলোর বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে ৮৫ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৫৯০ কোটি ৫ লাখ ডলার, যা গত এপ্রিলে নেমে এসেছে ৫০৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। অর্থবছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে ওঠানামা থাকলেও ফেব্রুয়ারি থেকে টানা তিন মাস পতন দেখা গেছে। দায় পরিশোধ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ নিম্নমুখী বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। 

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত জুলাইয়ের বাংকগুলোর কাছে সবচেয়ে বেশি রিজার্ভ ছিল সেপ্টেম্বরে, ৬১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এরপর তা কমতে শুরু করে। মাঝেমধ্যে সামান্য বাড়লেও দায় শোধের চাপে পতনের ধারায় নামে রিজার্ভ। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল সময়ে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের রিজার্ভ কমেছে ব্যাংকগুলোতে।  

সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির কারণে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমে এসেছে। জুলাই-মার্চ সময়ে ৪৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দেশের অ্যাকাউন্ট বা আর্থিক হিসাবের ঘাটতি চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে বেড়ে  ৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল মাত্র ২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। সরকার বর্তমানে বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধ করছে বেশি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে নিট বিদেশি ঋণ ছিল ঋণাত্মক ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

সম্প্রতি ডলারের সরবরাহ বাড়াতে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এতে উৎসাহ দিচ্ছে। প্রবাসীদের কাছ থেকে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ উৎসাহিত করতে বর্তমানে দেশের ২৫টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ডলার সংকটে কমেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত সপ্তাহে সামান্য বাড়লেও  গ্রস রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ও ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখনো ১৩ বিলিয়নের ঘরেই অবস্থান করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২১ মে পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ২৪ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী গ্রস রিজার্ভ ১৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরুতে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। তবে বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব আছে, যা শুধু আইএমএফকে (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) দেওয়া হয়। প্রকাশ করা হয় না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত