ভোজ্য তেলের দাম আরও বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম

ভোজ্য তেলের দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণেই দাম বাড়িয়ে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে গত ১১ জুলাই থেকে বর্ধিত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। সেদিনই মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়। তবে সেখান থেকে অনুমতি দেয়নি। পরে আরও একটি সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এই সময় মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দাম কত হওয়া উচিত তা বিশ্লেষণে কাজ শুরু করে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে জানা গেছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের এফওবি মূল্য ১ হাজার ১৯১ ডলার। যা মাসখানেক আগে ছিল ১ হাজার ১৬৯ ডলার। এক বছর আগে এই দাম ছিল ১ হাজার ৭৮ ডলারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম তেলের দাম ১ হাজার ১৬২ ডলার। যা এক মাস আগে ছিল ১ হাজার ১৪৫ ডলার এবং এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৫ ডলারে।

এই অবস্থায় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম খুচরা বাজারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া ৫ লিটারের বোতল ১ হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ১৮৮ টাকা নির্ধারণ করতে চান ব্যবসায়ীরা। একইভাবে খোলা পাম তেলের দামও বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৮৩ টাকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল। সে সময় এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৭৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৬ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি লিটার পাম ওয়েলের দাম লিটারে ১৭ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি লিটার সয়াবিন বোতলজাত সয়াবিন তেলে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত খরচ বেড়েছে। এই খরচ সমন্বয়ের জন্যই ব্যবসায়ীরা মূল্য সমন্বয় করতে চান।

এ বিষয়ে টিকে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. শফিউল আতহার তসলিম জানান, ‘বিবাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত খরচ বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। এরপর আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত