দখলদার ইসরায়েলের বাণিজ্যিক নগরী তেল আবিবসহ মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঞ্চল লক্ষ করে রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। গত ৪ মাসের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো মধ্যাঞ্চলে রকেট ছুড়েছে হামাস।
রোববার (২৬ মে) হামাসের ছোড়া রকেটের শব্দে কেঁপে ওঠে তেল আবিবসহ আশপাশের অঞ্চল। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বেসামরিকদের ওপর ইহুদিদের গণহত্যার বিরুদ্ধে এই রকেট হামলা বলে জানিয়েছে হামাস। খবর বিবিসির।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকা থেকে অন্তত ৮টি রকেট ছোড়া হয়েছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব হামলার বেশ কয়েকটি প্রতিরোধ করেছে।
ইসরায়েলি মিডিয়া হার্জলিয়ার একটি ভবনের বাগানে ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডের ফুটেজ প্রকাশ করেছে। অপর একটি ফুটেজে দেখানো হয়, শ্রাপনেলের আঘাতে একটি বাড়ির বেডরুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি ভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, কেফার সাবার কেন্দ্রীয় শহরের কাছে একটি খোলা জায়গায় রকেটের আঘাতে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে৷
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত রোববার সকালে দক্ষিণ লেবাননের নাকোরায় হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি ড্রোন হামলা চালায়। ইসরায়েলি বাহিনী আরও জানায়, আইতা অ্যাশ-শাবে আরও দুটি হিজবুল্লাহ সংগঠনকে লক্ষ্য করে একটি পৃথক হামলা চালায় তারা। এরই অংশ হিসেবে হামাস পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
হামাস আল-আকসা টিভি বলেছে, গাজা থেকে রকেটগুলো ছোড়া হয়েছে। গত চার মাস থেকে তেল আবিবে রকেট হামলার সাইরেনের শব্দ শোনা যায়নি।
ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডস বলেছে, আমাদের জনগণের ওপর ইহুদিবাদীদের গণহত্যার প্রতিবাদে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেল আবিবে অন্তত ১৫টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, রাফার যে স্থান থেকে রকেটগুলো ছোড়া হয়েছে সেখান থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে অবস্থান করছে ইসরায়েলি সেনারা। আর তাদের ফাঁকি দিয়েই সেখান থেকে হামলা চালাতে সমর্থ হয়েছে হামাসের যোদ্ধারা।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে গাজা-ইসরাইল বিধ্বংসী যুদ্ধ। প্রায় সাত মাস ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এখন পর্যন্ত ইসরাইল-হামাস যুদ্ধে ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৯০৮ জন। বাস্তুচ্যুত হয়েছে গাজার ১৭ লাখেরও বেশি বাসিন্দা।
পাপুয়া নিউগিনিতে ভূমিধস, ৬৭০ জনের বেশি চাপা পড়ার শঙ্কা জাতিসংঘের
ইসরায়েলি সেনা জিম্মির দাবি হামাসের, অস্বীকার ইসরায়েলের