ভাটায় শুরু, জোয়ারেই কি শেষ হবে ‘রিমাল’?

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৩৫ পিএম

পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’। সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে ছিল ভাটা। আর ঘূর্ণিঝড়টি ভাটার সময়ে প্রবেশ করলেও তা শেষ হতে হতে পূর্ণ জোয়ারের আগমন ঘটবে। ফলে ভাটায় প্রবেশ করলেও জোয়ারে শেষ হবে রিমাল। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে উপকূলে আঘাত হানতে পারে রিমাল। আর এই বাতাসের সাথে বৃষ্টি ও জোয়ার মিলিয়ে উপকূলে তাণ্ডবলীলা চালাতে পারে তীব্র আকারের ঘূর্ণিঝড়টি। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন আজ সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি ভাটার সময় উপকূলে প্রবেশ করলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে মধ্যরাতে। কারণ ওই সময়ে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি অতিক্রম করবে এবং তখন পূর্ন জোয়ারের সময় থাকবে। এতে উপকূলে ক্ষতির মাত্রা বেশি হতে পারে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রন কক্ষের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘কুয়াকাটা পয়েন্টে বিকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে পূর্ণ ভাটা বিরাজ করছে। তবে রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে জোয়ার বাড়তে শুরু করবে। আর আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই সময় ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ অতিক্রান্ত হতে পারে বলে বলা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্থলভাগের ভেতরের দিকের পয়েন্ট বিবেচনা করলে আরো ঘণ্টাখানেক সময় যুক্ত করতে হবে। তবে সামগ্রিকভাবে ঝড়টি শুরুর সময় ভাটা পেলেও শেষের অংশটি জোয়ার পাবে।’

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রাত ১১টার পর জোয়ারের সময় রয়েছে। আর ওই সময়ে ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশটি উপকূল অতিক্রম করার কথা রয়েছে। আর যেহেতু প্রায় মধ্যরাত, তাই এসময়ে জলোচ্ছ্বাস বা ঝড় হলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়ে থাকে। সেজন্য উপকূলের সকলকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার কথা বলা হচ্ছে।’

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর (সিপিপি) পরিচালক (অপারেশন) জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘আমাদের ১৩টি উপকূলীয় জেলার ৪২টি উপজেলার ৩৭০টি ইউনিয়নে ৭৬ হাজার ১৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। এসব স্বেচ্ছাসেবক স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উপদ্রুত মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে।’

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১৩ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পরবর্তী তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম করবে। ঘূর্ণিঝড়টি আজ বিকাল তিনটায় চট্টগ্রাম থেকে ৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে সোজা উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। 

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৯০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঝড়টি উপকূল অতিক্রমের সময় স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার বেশি জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. ছাদেকুল আলম বলেন, ‘দেশের মধ্যভাগে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব রয়েছে। এই প্রভাবের কারণে স্থল নিম্নচাপ আকারে এগিয়ে আসা ঝড়টি দেশের মধ্যাঞ্চলে এসে কুমিল্লার পাশ দিয়ে টার্ন নিয়ে পূর্ব দিকে চলে যাবে।’

এর আগে ২০০৭ সালের ১৫ মে ঘূর্ণিঝড় ‘আকাশ’, ২০০৮ সালের ৩ মে আঘাত ঘূর্ণিঝড় ‘নার্গিস’, ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’, ২০১০ সালের ২১ মে ঘূর্ণিঝড় ‘লায়লা’, ২০১৩ সালের ১৬ মে ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’, ২০১৬ সালের ২২ মে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানা’, ২০১৭ সালের ৩১ মে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’, ২০১৯ সালের ৫ মে ‘ফনি’ এবং ২০২০ সালের ২১ মে ‘আম্ফান’ উপকূলে আঘাত করেছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত