এমপি আনার হত্যা

প্রধানমন্ত্রীর শোক ও ৯০ দিনের অনুপস্থিতি আসতে পারে বিবেচনায়

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০৪:০৩ পিএম

ঝিনাইদহ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারের এমপি পদ শূন্য ঘোষণা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আনার ভারতের কলকাতায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে ভারত ও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করলেও তার মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর মরদেহ না মেলায় সংসদে আসনটি শূন্য ঘোষণা করতে আইনি জটিলতার মুখোমুখি পড়তে হবে সংসদকে। কারণ, কোনো এমপির আসন শূন্য ঘোষণা করতে তার মৃত্যু সনদ লাগে। আনারের মরদেহ না পাওয়া গেলে সেই সনদ দেবেন কে বা কোনো কর্র্তৃপক্ষ? সংসদীয় আসনই বা শূন্য ঘোষণা করা হবে কিভাবে? এসব নানা প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।

আনোয়ারুল আজীম আনারের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করার কথা। নির্বাচন কমিশনেরও ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সবার আগে আনারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

অবশ্য সংবিধানের ৬৭ ধারার ১ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের অনুমতি না নিয়ে কোনো সদস্য একনাগাড়ে ৯০ কার্যদিবস সংসদের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলে ওই সদস্যের আসন শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে জানায় সংসদ। নির্বাচন কমিশন ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের আয়োজন করে। সাধারণত কোনো সংসদ সদস্যের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যেই আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। আনারের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত এ আইন অনুসরণও করতে পারে জাতীয় সংসদ।

এদিকে আনারের মরদেহ খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত আনারের মৃতদেহ পাওয়া বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা যেহেতু আনারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শোকবার্তা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এটিও গুরুত্ব পেতে পারে। জানা গেছে, বিষয়টির সুরাহা করতে সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে সংসদ নেতা শেখ হাসিনার পরামর্শ গ্রহণ করবেন। সংসদ নেতা এবং সংসদ ও আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিয়ে জটিল এ ইস্যুর সমাধান করবে সংসদ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মরদেহ না পেলে সংসদে আসন শূন্য ঘোষণা করা জটিল। শেষ পর্যন্ত আইনি পরামর্শের শরণাপন্ন হতে হবে এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।

জানা গেছে, অতীতে এমন নজির না থাকায় সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিয়ে টানাপড়েনে রয়েছেন। সংসদীয় আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটি জটিল বিষয়। রাষ্ট্রীয় নির্ভরযোগ্য মহলকে দায়িত্ব নিতে হবে ও স্বীকৃতি দিতে হবে যে, আনারের মৃত্যু হয়েছে। ওই আসন শূন্য ঘোষণা করতে আইনজ্ঞদের মতামত তথা আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও নিতে হবে। ইতিমধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছে। চলতি সংসদের তিন সংসদ সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার পরামর্শ এবং নির্দেশনার প্রয়োজন পড়বে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক আইন সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করতে জটিলতার সৃষ্টি হবে। আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংসদ আনারের আসন শূন্য ঘোষণা করল, কিন্তু অকল্পনীয় হলেও তিনি কখনো ফিরে এলেন, তখন কী হবে? শূন্য ঘোষণা করার আগে এদিকগুলো ভাবতে হবে। তিনি আরও বলেন, সংসদ পরিচালনায় সম্পৃক্ত একজন এই প্রশ্নও তুলেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত