বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অন্ধকারে ফেনীর ৪ লাখ মানুষ

  • জেলার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৬৮ জন মানুষ
  • বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের শেডে ৮৬ গবাদিপশু
  • পল্লী বিদ্যুতের চার লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০৮:৫৯ পিএম

প্রবল শক্তি নিয়ে উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। ফেনীতে দেখানো হয়েছে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত। ইতিমধ্যেই সোনাগাজীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭-৯ ফুট উচ্চতায় জোয়ার আসায় উপজেলার মাছের ঘেরসহ ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়াও সোনাগাজীতে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া, ঘর-বাড়ির টিন উপড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফেনী জেলা প্রশাসন।

ফেনীতে রিমালের প্রভাবে মধ্যরাত থেকেই ঝড়ো হাওয়ার সাথে শুরু হয় বৃষ্টি। সকাল থেকে থেমে থেমে দুপুর পর্যন্ত সারাদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক তারে গাছ পড়ে জেলার বেশ কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঝড়ো বৃষ্টি হলেও সকালের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যায় সাধারণ মানুষ।

সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন বলেন, ‘বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বাতাসের কারণে কিছু গাছপালা উপড়ে পড়ে। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।’

ওই এলাকার বাসিন্দারা বলেন, মধ্যরাত থেকে বাতাসের গতিবেগ বেড়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত তারা নিরাপদে আছেন। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছু বেশি থাকলেও লোকালয়ে প্রবেশ করেনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রিমালের জন্য প্রস্তুত ছিল জেলার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন ৪৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৬৫ জন, নারী ১৩৮ জন, প্রতিবন্ধী ১৯ জন এবং শিশু ৪৬ জন। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের শেডে ৮৬টি গবাদিপশু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গরু-মহিষ ৬২টি এবং ছাগল-ভেড়া ২৪টি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জেলার কোথাও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘রাত থেকেই ঝড়ো হাওয়ায় বিদ্যুতের সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে সংযোগ সচল করতে কাজ শুরু হবে। বর্তমানে জেলায় পল্লী বিদ্যুতের চার লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী আ. স. ম. রেজাউন নবী বলেন, ‘তীব্র ঝড়ো হাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোর ৫টা থেকে ৫০ হাজারের অধিক গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে লাইন মেরামতের কাজ শুরু হবে।’

ফেনী আবহাওয়া দপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সোমবার সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এখনো ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত