শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সম্ভাবনা থাকলেও আম রপ্তানিতে পিছিয়ে দেশ

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ০২:৪২ এএম

আম রপ্তানিতে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তাতে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বিশে^র বিভিন্ন দেশে বাজার সৃষ্টি করতে না পারা, উন্নত মানের নিরাপদ আম রপ্তানির জন্য রপ্তানিকারকদের অনীহা ও মানসিকতার অভাবে রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে। 

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বাংলাদেশে আম উৎপাদন : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেজ্ঞরা এসব কথা বলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে কৃষি বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, আমে উপস্থিত পেস্টিসাইডের রেসিডিও অ্যানালাইসিস ও ফলের গুণমান পরীক্ষার জন্য পূর্ণ সক্ষমতাসম্পন্ন অ্যাডিক্টেড লাইব্রেরির অভাব ও রপ্তানির ক্ষেত্রে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যার কারণে আম রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আমের মতো সুস্বাদু আম বিশ্বের কোথাও নেই। রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রচার, প্রসারসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরও করণীয় আছে। আমাদের কৃষিপ্রধান দেশ হলেও মাত্র একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধিসহ ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাড়াতে সরকারের সচেষ্ট হতে হবে।’

সেমিনারে আমের নতুন জাতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাবিষয়ক মুখ্য আলোচনা করেন আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোখলেসুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন সিজেএফডির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার।

ড. মোখলেসুর রহমান বলেন, বিশ্বের মধ্যে আম উৎপাদনে অন্যতম হলেও রপ্তানির দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। প্রতিবছর প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। কিন্তু সেখান থেকে ৩০-৪০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হয়। এ ছাড়া ভরা মৌসুমে উৎপাদন প্রাচুর্যে মূল্য হ্রাস পায়। ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। কয়েক বছরে রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও তা আশানুরূপ নয়।

সেমিনারে আম রপ্তানির বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার সীমিত রেখে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে আম উৎপাদন করা। আমের প্যাকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। আম পরিবহনের জন্য আধুনিক যানবাহনের ব্যবস্থা করা। বিমানের কার্গোয় আম পরিবহনের ব্যবস্থা উন্নত ও সহজতর করা। রপ্তানি উপযোগী আমের চাষ সম্প্রসারণ করা। আমচাষি, বিশেষ করে রপ্তানির জন্য আম উৎপাদনকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। আম থেকে উৎপাদিত পণ্য, যেমন জুস, জ্যাম, জেলি, আচার, ক্যান্ডি ইত্যাদি বিদেশে বাজার সম্প্রসারণ করা। আমভিত্তিক শিল্প স্থাপনে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা। জৈব প্রযুক্তিনির্ভর আম উৎপাদন উৎসাহিত করা। আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্যাকিং ও পরিবহন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। আম রপ্তানির জন্য সব রপ্তানিকারকের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং মানদন্ড ঠিক করে দেওয়া।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত