স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষত, এখনো বিদ্যুৎবিহীন কোটি মানুষ

আপডেট : ২৯ মে ২০২৪, ০৬:১৪ এএম

উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিলেটে প্রবল বৃষ্টি ঝরিয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয় এই ঘূর্ণিঝড়। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে রিমালের ধ্বংসলীলা। দমকা বাতাস আর ভারী বৃষ্টি কমতে শুরু করার পর দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবলীলার ক্ষতচিহ্নগুলো ফুটে উঠতে শুরু করেছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় উপকূলে আছড়ে পড়ার পর  ব্যাপক তাণ্ডব চালাতে শুরু করে রিমাল। আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে রূপ নিলেও, প্রায় ৩৬ ঘণ্টা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করে। রিমালের প্রভাবে প্রবল জোয়ারের তোড়ে বহু জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ উপকূলের বহু এলাকা। জলোচ্ছ্বাসে ১০ থেকে ১২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সেখানে। ভেসে গেছে উপকূলের বহু মাছের ঘের, প্লাবিত হওয়া উপকূলের নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়েছে লবণাক্ত পানি।

১৫ বছর আগে দেশের ভূমিতে ঘূর্ণিঝড় আইলা যে প্রলয় চালিয়েছিল, রিমালের দীর্ঘসময় ধরে চালানো তাণ্ডবেও একই রকমের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সরকারের সংশ্লিষ্টরা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

বাতাসের প্রায় ১২০ কিলোমিটার ঘূর্ণনগতি নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে রিমাল। এরপর ধীরে ধীরে আগাতে শুরু করে সামনের দিকে। প্রথমেই তাণ্ডবের শিকার হয় বাংলাদেশের ঢাল হিসেবে পরিচিত সুন্দরবন। এরপর সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট দিয়ে ভারতে আসামে চলে যায়।

তবে দীর্ঘ এই যাত্রাপথ ধীরগতিতে পার হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থলে উঠে যাওয়ার পরও বহু সময় ধরে দমকা বাতাস ও ভারী বর্ষণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। গাছের গোড়া দুর্বল হয়ে উপড়ে পড়তে থাকে। ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বহু মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে অচল হওয়া মোবাইল নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি। পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হচ্ছে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায়। আস্তে আস্তে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে অনেকেই রয়েছেন অন্ধকারে। যোগাযোগ করতে পারছেন না আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে।

ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে গত রবিবার সন্ধ্যা থেকেই মূলত বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর সঙ্গে ঝড়ের কারণে বিতরণ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু কিছু জায়গায় বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। দেশের ৪ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৩ কোটিরও বেশি গ্রাহক ছিলেন অন্ধকারে। এর মধ্যে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রচেষ্টায় গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অন্তত ২ কোটি ৪৫ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। বাকিদের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ৮০টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতায় অন্তত ৩ কোটি ৩ লাখ ৯ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ২ কোটি ৪২ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। আজ বুধবার সকালের মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া ৯০ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাকিদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে দ্রুত করার চেষ্টা চলছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ১০৩ কোটি ৩৩ কোটি লাখ টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি, পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ঠিকাদার ও নিজস্ব জনবলসহ ৩০ হাজারের বেশি কর্মী মাঠে কাজ করছেন।

এদিকে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ১৫৪ জন গ্রাহকের মধ্যে ১৪ লাখ ৩ হাজার ৫২৬ জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অবশিষ্ট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৮ জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক মালামাল নষ্ট হয়ে ওজোপাডিকোর প্রায় ৫ কোটি ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বিদ্যুৎ না থাকা এবং ঝড়ের প্রভাবে দেশের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক টাওয়ারের প্রায় ৪৯ শতাংশ অচল হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষ (বিটিআরসি) গতকাল সন্ধ্যায় জানায়, বেলা ৩টা পর্যন্ত মোবাইল অপারেটরদের সারা দেশের ৫৮ হাজার ২৯৮টি সাইটের মধ্যে ৩৮ হাজার ১৫৫টি সাইট সচল হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত ৩৪ শতাংশেরও বেশি সাইট অচল ছিল।

মোবাইল ইন্টারনেটের বাইরে উপকূলীয় এলাকায় অন্তত প্রায় ৩ লাখ গ্রাহকের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে। সেটিও আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হচ্ছে।

উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড় রিমাল গতকাল সকালে সিলেটে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গত সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয় সিলেটে, যা গতকাল দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তার এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সিলেট নগরসহ পুরো বিভাগ জুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন লাখ গ্রাহক গত সোমবার রাত থেকে বিদ্যুৎহীন রয়েছেন। তবে গতকাল দুপুরে বৃষ্টি থামার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কও ব্যাহত হচ্ছে।

খুলনার তিন উপজেলায় ছয়টি স্থানে বেড়িবাঁধ আপাতত মেরামত করা গেলেও দুটি স্থানে এখনো ভাঙা রয়ে গেছে বাঁধ। ভাঙনে আশপাশের গ্রাম জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে ফসলের মাঠ ও মৎস্যঘের।

ঘূর্ণিঝড় রিমালে বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ জেলার দশ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু জায়গায় ঝড়ের কবলে ভেঙে পড়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি, দেয়াল ও গাছপালা। বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগসহ মোবাইল নেটওয়ার্ক। জেলায় কৃষি খাতে ২ হাজার ৭৮ হেক্টর জমির ফসলের সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পটুয়াখালীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এখনো পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার কয়েক পরিবার। বাতাসের চাপ না থাকলেও উপকূলের আকাশ ঘনকালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। অনেক স্থানে এখনো হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যমতে, জেলায় ৩ হাজার ৫০০ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ৯ হাজার ১০৫টি পুকুর, ৭৬৫টি মাছের ঘের এবং ১২০টি কাঁকড়াঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে মৎস্যচাষিদের ১৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা।

প্লাবিত হয়েছে বরগুনার ৩ শতাধিক গ্রাম। গাছ উপড়ে ও বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বরগুনার ৬টি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা। জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে মাছের ঘের, নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি। ভোগান্তির শেষ নেই বানভাসি ও ক্ষতিগ্রস্ত ৫ লাখ মানুষের। রিমাল তাণ্ডবে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়া অনেকেই রয়েছে এখন খোলা আকাশের নিচে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে ঝোড়ো বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকায় শতাধিক বাড়িঘর ভেঙে লন্ডভন্ড হয়। কাঁচা-পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রামগতি-কমলনগরে লক্ষাধিক মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে টানা তিন দিন।

ঝালকাঠিতে একজন নিহত হয়েছেন। বিধ্বস্ত হয়েছে ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি। এ ছাড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি ও পানিবন্দি রয়েছে জেলার কয়েক লাখ মানুষ।

লক্ষ্মীপুরে দুদিনে একজনের মৃত্যু, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পুরো জেলায় দুদিন ধরে  বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে করে জনদুর্ভোগ চরমে।

চাঁদপুরের পুরান বাজার এলাকার ৮টি পয়েন্টে শহর রক্ষাবাদের ১৬৫ মিটার মেঘনা নদীতে ধসে গেছে। সোমবার দিনভর টানা বৃষ্টিপাত ও মেঘনার উত্তাল ঢেউ বিকেলে বাঁধে ভাঙন ধরে। তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনকে বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা চালায়।

রিমালের প্রভাবে জলাবদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ। সোমবার ভোররাত থেকে ঝোড়ো হাওয়াসহ প্রবল বৃষ্টির কারণে শহর ও শহরতলির সব রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায়  চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংবাসীকে নদীভাঙনের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। ঢেউয়ের তোড়ে নদীভাঙনরোধে ফেলা জিওব্যাগ সরে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কমলগঞ্জ পৌর শহরের একটি ড্রেন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে পানিশালা ও চণ্ডীপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বৃষ্টির মধ্যে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন ছিল গোটা উপজেলা।

বগুড়ার আদমদীঘির বেশ কিছু এলাকায় প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও এখনো বিদ্যুতের দেখা মেলেনি।

নেত্রকোনা জেলার বিদ্যুতের গ্রাহকরা বত্রিশ ঘণ্টা ধরে অন্ধকারে আছেন। বাগেরহাটে দুদিন পার হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে পারেনি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। প্রায় পাঁচ লাখ গ্রাহক দুদিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এতে জেলার কয়েক লাখ মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে সড়ক ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ে। যার ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা উপজেলা। ২৮ ঘণ্টা পর পৌর শহরে কিছুটা বিদ্যুতের দেখা মিললেও বিদ্যুতের দেখা মিলছে না ইউনিয়নপর্যায়ে।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অস্বাভাবিক জোয়ার ও বৃষ্টিপাতে ৪০০ ঘর প্লাবিত ও সহস্রাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে।

‘রিমালে’র প্রভাবে এবার অস্বস্তির গরম

ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১১ কিলোমিটার বেগে উপকূলে আঘাত করা ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাব যেন শেষ হচ্ছে না। দুদিন ধরে দেশে বৃষ্টি ঝরিয়ে এবার বাড়াচ্ছে অস্বস্তির গরম। আর এই গরম কয়েক দিন চলার পর আবারও চোখ রাঙাচ্ছে তাপপ্রবাহ।

ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ গত রবিবার মধ্যরাতে উপকূলে উঠে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর গতি হারিয়ে যশোরের ওপরে গতকাল দিনভর ঠায় অবস্থান করছিল। আর এর প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টিতে নগরগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ে এবং মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। গতকাল থেকে স্থল নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং বিকেলে স্থল লঘুচাপ হিসেবে রূপ নিয়ে সিলেটে অবস্থান করছিল। এটি ক্রমান্বয়ে বৃষ্টি ঘটিয়ে ভারতের দিকে চলে যাচ্ছে। তবে এর প্রভাবে ভ্যাপসা গরম বাড়ছে।

ভ্যাপসা গরম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ড. আবুল কালাম মল্লিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে বাতাসে ও মাটিতে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বেশি। আর এতে আমাদের শরীরের ঘাম শুকাচ্ছে না। অর্থাৎ, বায়ুম-ল শরীর থেকে ঘাম শোষণ করে নিচ্ছে না বলে আমাদের কাছে গরমটা অস্বস্তিকর লাগছে।’

এই অস্বস্তি কত দিন থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য কমে যাবে এবং পর্যায়ক্রমে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। মৌসুমি বায়ু প্রবেশের আগে তাপপ্রবাহের দেখাও মিলতে পারে।

মৌসুমি বায়ু প্রবেশের আগে মৌসুম সেট হতে সাগরে এমন একটি নিম্নচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে থাকে। গত ২৬ মে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল উপকূলে আঘাত করা ঘূর্ণিঝড় ‘রিমালের’ কারণে এবার মৌসুম সেট হতে একটু সময় লাগতে পারে।

সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত