সাগরের ঢেউ ও তীব্র বাতাসে ভেঙে পড়েছে গাজায় নির্মিত অস্থায়ী সমুদ্রবন্দর, যা মেরামত করতে এক সপ্তাহ বা আরও বেশি সময় লাগতে পারে। বুধবার (২৯ মে) মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
পেন্টাগনের মুখপাত্র ও ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাবরিনা সিং জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নৌবাহিনীর সহায়তায় আগামী দুই দিনের মধ্যে অস্থায়ী বন্দরের ভাসমান অংশগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।
তিনি বলেন, আবহাওয়ার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। সাগর শান্ত এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই বন্দরের নির্মাণকাজ শেষ হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে।
জরুরি ত্রাণ সরবরাহের জন্য তৈরি বন্দরটির একটি অংশ ইস্পাতের টুকরা জোড়া দিয়ে তৈরি। সাগরের ঢেউ ও তীব্র বাতাসে ইস্পাতগুলোর বেশ কয়েকটি জোড়া আলগা হয়ে গেছে।
গাজার ভৌগলিক আয়তন ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার। উপত্যকাটির উত্তর ও পশ্চিমে ইসরায়েল সীমান্ত, দক্ষিণে মিসর সীমান্ত এবং পূর্বদিকে ভূমধ্যসাগর।
২০০৫ সালে হামাসের ক্ষমতা দখলের পর থেকে উত্তর ও পশ্চিম সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে উপত্যকায় খাদ্য-ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার সরবরাহ দক্ষিণের মিসর সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করত। কিন্তু ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সেই সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় ত্রাণ-সহায়তার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইসরায়েলের টানা অভিযান ও ত্রাণের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ে পড়ে গাজাবাসীরা। এই অবস্থায় গত ৮ মার্চ গাজায় পূর্বদিকে ভূমধ্যসাগরের তীরে অস্থায়ী সমুদ্রবন্দর তৈরির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত বন্দরটি শুধুমাত্র গাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ত্রাণ পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা হবে। এর দেড় মাস পর ২৬ এপ্রিল থেকে অস্থায়ী বন্দর নির্মাণ শুরু করে মার্কিন নৌবাহিনী। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বন্দরের নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ১৭ মে বন্দরে প্রথম ত্রাণবাহী মার্কিন জাহাজ নোঙ্গর করে।
ভূতকে বিয়ের পর ডিভোর্স, এখন কী করছেন ব্রিটিশ গায়িকা