আওয়ামী লীগ নেতাকে পেটালেন ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট : ২৯ মে ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা আল মামুন মন্ডলকে (৩৯) মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা রুবেলসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে থানা মামলা দিয়েছেন ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা মামুন। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি প্রান্তকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ।

বুধবার (২৯ মে) দুপুরের দিকে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় ছাত্রলীগ নেতা রুবেলসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান রুবেল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বিজয়ী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের ভাতিজা। ভুক্তভোগী আল মামুন মন্ডল পরজিত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান মো. সোলায়মান হোসেনের সমর্থক ও চর আমখাওয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং এলাকার শহিদুল মন্ডলের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা মামুন তার পছন্দের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান হোসেনকে সমর্থন করেন। এতে বিজয়ী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়। নির্বাচনের পরে ঢাকায় যায় মামুন। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ মে) বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে দেওয়ানগঞ্জ বাজার স্টেশনে আসেন। পরে সেখান থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে নিজ বাড়ি সানন্দবাড়িতে যাওয়ার পথে দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের বাদেসশারিয়া বটতলা এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা রুবলের নেতৃত্বে মামুনের ওপর অতর্কিত হামলা এবং মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হন। আহত মামুন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে যান।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা আল মামুন মন্ডল বলেন, ‘নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে আমার ওপর হামলা করা হয়। আমি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে আমার পছন্দের মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি গুরুতর আহত হয়েছি। আগামীকাল চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ যাব। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’

অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘আমরা রাতে রুটি খেয়ে বাসায় ফেরার পথে দেখি মামুন ভাইয়ের সাথে কয়েকজন নেশাখোর ছেলের ধস্তাধস্তি হচ্ছে। আমাদের গাড়ির লাইট দেখে ওই নেশাখোর ছেলেরা পালিয়ে যায়। তখন আমরা মামুন ভাইকে এগিয়ে দেই। তার সাথে আমার কোনও ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি প্রান্তকে গ্রেপ্তার করা হযেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত