বহু পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্বকাপে ‘প্রথম’

আপডেট : ০২ জুন ২০২৪, ১২:৪৭ এএম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী কোন দুই দল? প্রশ্নটা শুনলে অনেকের মাথায় আসবে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার নাম। যে ম্যাচ ১৮৭৭ সালে লর্ডসে হয়েছিল। এ কারণে লন্ডনের এই মাঠকে বলা হয় ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর। কিন্তু এতকাল সঠিক উত্তরটা জানতেন না বেশিরভাগ ভক্তই। প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্টের ৩৩ বছর আগে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হয়েছিল কানাডার। তিন দিনের সেই ম্যাচে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকদের ২৩ রানে হারিয়েছিল তাদেরই প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি।

১৮০ বছর পর সেই পুরনো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আবার মুখোমুখি হচ্ছেন আরেক ‘প্রথম’-এ। সেটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরের উদ্বোধনী খেলায়। কাকতালীয়ভাবে এই দুই দলেরই কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণ। বাছাইপর্ব জিতে তারা এবার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের চার-ছক্কাতেই পর্দা উঠবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের।

রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় ম্যাচটি শুরু হবে ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে। তবে ৭ হাজার ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামের ম্যাচটি ঘিরে সেখানে নেই তেমন কোনো উত্তেজনা। দর্শকদেরও খুব একটা টিকিট কাউন্টারে ভিড় করতে দেখা যায়নি। তা ছাড়া আছে বজ্রপাতের আশঙ্কা।

ঝড় শঙ্কার মধ্যে বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আগ্রহ না

থাকলেও আজকের ম্যাচে ফেভারিট যুক্তরাষ্ট্রই। সেটা সাম্প্রতিক ফলাফলের কারণে। ঘরের মাঠে তারা আতিথেয়তা দিয়েছিল বাংলাদেশকে। সিরিজে হারিয়েছে ২-১ ব্যবধানে। সবশেষ ৫ ম্যাচের চারটিতেই তারা জিতেছে। হেরেছে কেবল নিজেদের শেষ ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তদের বিপক্ষে। আর কানাডা নিজেদের শেষ ৫ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে।

তবে দুই দলের পরিসংখ্যানে এগিয়ে আছে কানাডাই। এখন পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় কোনো সিরিজ তাদের মধ্যে হয়নি। দেখা হয়েছে আইসিসি স্বীকৃত কোনো টুর্নামেন্টেই। এখন পর্যন্ত লড়াইয়ের মধ্যে তিনটিতে জয় কানাডার। বাকি দুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের। যার মধ্যে মনে রাখার মতো ম্যাচটি হয়েছিল তিন বছর আগে। ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপের আঞ্চলিক বাছাইয়ে সুপার ওভারে গড়িয়েছিল তাদের লড়াই। সেখানে অবশ্য শেষ পর্যন্ত জয় হয় কানাডারই।

টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে দুই দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা পঞ্চম খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার কোরি অ্যান্ডারসন। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক হরমিত সিং- বাঁহাতি পেসার কালিম সানার মধ্যে কানাডা এমন একজনকে পেয়েছে, যিনি একবার পাকিস্তানের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে বাবর আজমকে আউট করেছিলেন। সহযোগী ক্রিকেটের অন্যতম পেসার ৩৭ বছর বয়সী জেরেমি গর্ডনও আছেন তাদের দলে।

তবে সবাইকে ছাপিয়ে সব আলো থাকবে কোরি অ্যান্ডারসন ও অ্যারন জনসনের দিকে। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় অ্যান্ডারসনের। ২৮ ও ৫৫ রান দিয়ে শুরু করলেও ব্যাটের ধার কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচটি কুড়ি ওভারের ম্যাচ খেলেছেন। তার স্ট্রাইক রেট মাত্র ১১২.৩০। একসময় দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল তার দখলে। তাই নতুন দলের হয়ে সাবেক কিউই তারকার এমন পরিসংখ্যান দেখে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, তিনি কি পারবেন ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত