ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়ছে, বালুর ব্যাগসহ ভাঙছে পাড়

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪, ১২:৫৪ এএম

পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙন প্রতিরোধে কোনো কাজেই আসছে না বালুভর্তি জিও ব্যাগ। অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের বসতভিটা-ফসলি জমি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এর আগে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন দেখা দিলে তা প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স এমইউবিএমএমবি (জেবি) নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। পরে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছরের ২৭ মার্চ কাজটি করার অনুমোদন দেওয়া হয়। কাজটি শেষ করার জন্য আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর আমখাওয়া ইউনিয়নের পাটাধোয়া পাড়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ভাঙন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জিও ব্যাগ ফেলা অবস্থায় আবারও দেখা দিয়েছে ভাঙন। কোনো কাজেই আসছে না জিও ব্যাগ। ইতিমধ্যে সাত শতাধিক বসতভিটা, ৩০০ একর ফসলি জমি, পাটাধোয়া পাড়া জামে মসজিদ, পাটাধোয়া পাড়া নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে।

এ ভাঙনে কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সানন্দবাড়ি বাজার, সানন্দবাড়ি ডিগ্রি কলেজ, সানন্দবাড়ি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সানন্দবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, মৌলভীরচর উচ্চ বিদ্যালয়, মৌলভীরচর আলিম মাদ্রাসা, সানন্দবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে।

এ ছাড়া পাটাধোয়া পাড়া থেকে মৌলভীরচর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গ্রাম এবং শতশত বিঘা ফসলি জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নদের পূর্ব তীরের পাটাধোয়া পাড়ায় ভাঙনরোধে কিছু জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। আবার কিছু জায়গায় ফেলার জন্য জিও ব্যাগ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।

পাটাধোয়া পাড়ার আবদুল হালিম বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের অনেক ফসলি জমি নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন জমিজমা নেই বললেই চলে। এভাবে ভাঙতে থাকলে শেষ সম্বল বসতভিটাটুকুও হয়তো রক্ষা করতে পারব না। আমরা সরকারের কাছে স্থায়ী বাঁধ চাই।’

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। দ্রুত প্রকল্পটি পাস হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হবে।’ এ বিষয়ে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নুর মোহাম্মদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত