উন্নয়নে যারা পাশে তাদের সঙ্গেই চলব : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪, ০১:২৯ এএম

কে কার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত, তা বিবেচনা না করে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে যে দেশগুলো সহযোগিতা করবে, তাদের সঙ্গেই বাংলাদেশ কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমার নিজের দেশের উন্নয়নটা আগে দরকার। আমার দেশের উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করবে, আমি তাদের নিয়ে চলব। সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ‘আমার চোখে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক মিনিটব্যাপী ভিডিওচিত্র তৈরি প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

শান্তির সপক্ষে তার বলিষ্ঠ অবস্থানের কথা পুনরুল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় শান্তি চাই। আমরা যুদ্ধ চাই না। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। আর সেই বন্ধুত্ব রেখেই আমি এগিয়ে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সামনে কিন্তু অনেক কাজ। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ব। আর তোমরাই হবে সেই স্মার্ট বাংলাদেশের মূল সৈনিক এবং তোমরাই এ দেশকে গড়বে। কারণ তোমরা ইতিহাসটাকে যেভাবে তুলে ধরেছ, তাতে সত্যিই আমি চোখের পানি রাখতে পারিনি।’ তিনি অংশগ্রহণকারীদের জন্য দোয়া ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও ধন্যবাদ জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি মনে করি আর এই বাংলাদেশকে কেউই পেছনে টানতে পারবে না। ১৫ আগস্টের পর যেভাবে আমাদের ভিক্ষুক জাতিতে পরিণত করা হয়েছিল, আর যেন কেউ এটা করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সব সময় সজাগ থাকতে হবে। দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারকারীদের মধ্যে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর ইতিহাস বিকৃতির যে প্রচেষ্টা হয়েছিল তার থেকে বাংলাদেশ আজকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। সঠিক তথ্যটা সবার সামনে চলে আসছে।’

শেখ হাসিনা খুদে শিক্ষার্থীদের জাতির পিতাকে নিয়ে ভিডিওচিত্র নির্মাণ প্রসঙ্গে আনন্দানুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আজকের নতুন প্রজন্ম তোমরাই এক দিন এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু সেটা করতে হলে একটা আদর্শ লাগে। ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। কিন্তু আগামী দিনের পথচলা আমাদের নিজেদেরই খুঁজে বের করে আমরা যেন সুন্দরভাবে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা ছাড়া কখনো এটা সম্ভব নয়। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতিকে দারিদ্র্যমুক্ত করা যায় না। শিক্ষাই হচ্ছে সব থেকে বড় অর্জন।’

নিজের এবং ছোট বোন শেখ রেহানার সন্তানদের দেওয়া উপদেশের উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, তাদের জন্য তারা কোনো সম্পদ রেখে যেতে না পারলেও তাদের শিক্ষায় শিক্ষিত করে যাবেন, যে সম্পদ কোনো দিন কেউ তাদের কাছ থেকে চুরি করতে পারবে না বা কেড়ে নিতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগ। কাজেই ছেলেমেয়েদের এটাই বলব, লেখাপড়া ও জ্ঞানার্জন ছাড়া নিজেদের যেমন তৈরি করতে পারবে না, দেশকেও তৈরি করতে পারবে না।

৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠনের পর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়ে মোবাইল ফোন ও তথ্যপ্রযুক্তিকে জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগের উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, সেখান থেকে আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। দ্বিতীয়টার জন্য প্রস্তুতি চলছে, কেননা একটি স্যাটেলাইটের মেয়াদ থাকে ১৫ বছর।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদিও আমি শুনি অনেকে বলে এই স্যাটেলাইটের কী দরকার ছিল! আমাদের বাংলাদেশের কিছু মানুষ রয়েছে যাদের সবকিছুতেই “কিছু ভালো লাগে না”। এই কিছু ভালো লাগে না গ্রুপের আরও বক্তব্য হচ্ছে মেট্রোরেল, এটার কী দরকার ছিল? এক্সপ্রেসওয়ে করা শুধু শুধু পয়সা নষ্টÑ এ রকম লোকজন নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে সব সময় চললেও এর সুবিধাগুলো আবার ঠিকমতোই নিজেরা ভোগ করে।’

প্রধানমন্ত্রী কোমলমতিদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের তৈরি হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা যাতে নষ্ট না হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশ যে ক্ষুধামুক্ত এবং উন্নতসমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে, সেটা তোমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলব না। নিজেরা নিজেদের আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে চলব। এটাই আমাদের মাথায় সব সময় রাখতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তারা সরকারে আসার পর খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা যেমন করেছে, তেমনি কারও কাছে যেন হাত পাততে না হয়, সেটাও নিশ্চিত করেছে।

‘নিজেরা উৎপাদন করব, নিজেরা খাব, প্রয়োজনে অন্যকেও খাওয়াব’ উল্লেখ করে দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিকে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসায় তার প্রচেষ্টারও উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের জমি উর্বর ও বিরাট জনসংখ্যা রয়েছে এবং বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ, যেই যান্ত্রিকীকরণের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আর কোনো কাজেই কোনো লজ্জা নেই।’ এ প্রসঙ্গে তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কভিড-১৯ চলকালে ছাত্রলীগের সদস্যদের ধান কাটায় অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

করোনাকালে প্রয়োজন পড়ায় প্রধানমন্ত্রী এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা নিজেরাও নিজেদের গৃহস্থালি কাজ সামলেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা কিন্তু নিজেরাই নিজেদের কাজ করেছি এবং কাজ করতে আমরা কখনোই লজ্জারোধ করি না। নিজের কাজটা নিজে করাটাই সব থেকে সম্মানের এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা আমাদের কমাতে হবে।’

শেখ হাসিনা ভিডিওচিত্র নির্মাণ ‘আমার চোখে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার আয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটা আমি মনে করি আমাদের ছোট্ট শিশুদের ভেতরে একটি আদর্শ (জাতির পিতার) এবং স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনাটাই গড়ে উঠবে। যাতে তারা লেখাপড়া শিখে এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।’ বাসস

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত