কুড়িগ্রামে ধারের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও পরে আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গতকাল রবিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন এ বিষয়ে সুয়োমোটো (স্বতঃপ্রণোদিত) অভিযোগ গ্রহণ করে বিবৃতি দিয়েছে।
কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে ধারের ২০ হাজার টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় ওই গৃহবধূকে দুই মাস ধরে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। পরে এক পুলিশ সদস্যের বাধার কারণে থানায় মামলা করতে পারেননি ওই গৃহবধূ। আর স্থানীয় ইউপি সদস্য চিকিৎসার খরচের জন্য এক লাখ টাকা দাবি করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নিয়েছেন। বিষপানের পর ওই গৃহবধূ মারা গেছেন।
ধর্ষণসহ উল্লিখিত সব অভিযোগকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ।
গত ৩১ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উল্লেখ করে মানবাধিকার কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক মাস আগে অভাবের কারণে ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযুক্ত জয়নালের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার করেন। ওই টাকার জন্য জয়নাল তাকে (গৃহবধূ) চাপ দিয়ে আসছিলেন। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় জয়নাল তাকে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এরপর জয়নাল, শুক্কুর ও সোলেমান নামে তিনজন দিনের পর দিন ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করতে থাকেন। এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ করে বিচার না পেয়ে গত ২৪ মে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী বিষপান করেন। এতে স্বামী বেঁচে গেলেও ওই গৃহবধূ মারা যান।
