দুবাইয়ের সেই ফাইনালের রাতটা কোনোদিনই ভোলার নয়। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার কিংবা ভক্তদের তো বটেই। পাকিস্তান ৬০ রানের ভেতরেই তুলে নিয়েছিল ৬ উইকেট। সেখান থেকে মিডল অর্ডাররা গড়েছিলেন লড়াইসম পুঁজি। আর তাতে ভর করেই পরে বধ করে বাবর আজমদের। ২০২২ সালের এশিয়া কাপের শিরোপা লড়াইয়ের সেই রাতে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দাসুন শানাকার দল, তা হয়তো তাদের নিজেদেরও জানা ছিল না। কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর দিনে যে আফগানিস্তানের কাছে শোচনীয় পরাজয় হয়েছিল তাদের।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কালে প্রসঙ্গ তোলাটা অবেলায়ই বলা চলে। ঐ সময়টাতে অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল শ্রীলঙ্কাতে। মানুষজন এমন একটা রাত দেখেননি বহুদিন। তাদের শিরোপা জয়ে যেন পরদিন নতুন সূর্যের উদয় হয়েছিল দেশটিতে। কাকতালীয় হলেও সত্য, এখন সেই মন্দাভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশটিও। ঠিক যেভাবে ক্রিকেটের ঘোর অমানিশাকালেও অন্ধকার ডিঙিয়ে লঙ্কান ক্রিকেটাররা পেয়েছিল আলোর দেখা।
তবে এক সময়ের এশিয়া তথা ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী শ্রীলঙ্কা যে এখন এক শঙ্কার নাম। কুড়ি ওভারের বিশ্ব আসরের ২০০৯ ও ২০১২ সালের রানার্স-আপ দলটি ২০১৪ সালে বাংলাদেশে এসে হয় চ্যাম্পিয়ন। মিরপুরের সেই ফাইনালের ১০ বছর কেটে গেছে। আজ রাবণের দেশের ক্রিকেটের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ই বলা চলে। আগের সেই দাপট যে আর নেই তাদের।
তবে দাপটহীন সৈন্যরাও এখনো ক্রিকেট সাম্রাজ্যে নিজেদের রাজত্ব কিছুটা টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন। এখনো নিয়মিত খেলে তারা বিশ্বকাপে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে তারা আজ মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নিউ ইয়র্কের নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে খেলাটি। যে ম্যাচে চোখ থাকবে বাংলাদেশেরও। কারণ ডি গ্রুপে নাজমুল হোসেন শান্তদেরও প্রতিপক্ষ এই দুই দল। যারা হারবে, মুখোমুখিতে তাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশ।
প্রোটিয়ারা এখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের গেরো কেটে ফাইনালে উঠতে পারেনি। অথচ লঙ্কানরা খেলেছে তিনবার। তবুও আজ মাঠে নামার আগে ফেভারিট এইডেন মার্করামরা। সাম্প্রতিক ফর্ম যেমন এগিয়ে রাখছে প্রোটিয়াদের, তেমনি অতীত পরিসংখ্যানও তাদের পক্ষে কথা বলে। যেখানে মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকতে পারেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গারা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ২০১২ সালের বিশ্বকাপে। সেবার আয়োজক ছিল লঙ্কানরা। তবে ম্যাচটা দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছিল ৩২ রানে। তেতো হলেও সত্য, প্রথম জয়ের দেখা পায় লঙ্কানরা উভয় দলের চতুর্থ সাক্ষাতে। এখন পর্যন্ত ১৭ মুখোমুখির ১২টিতেই জয় প্রোটিয়াদের। তারমধ্যে বিশ্বকাপেই দেখা হয়েছে চারবার। যেখানে লঙ্কানদের জয় মাত্র একটিতে। দুই দলের সবশেষ ৫ দেখার প্রতিবারই জয় গিয়েছে লঙ্কানদের পক্ষে।
তবে শেষ দেখাটা তিন বছর আগে। সেটাও দুবাইতে হওয়া বিশ্বকাপে। যদিও জয় নিয়ে আশা করলে বাড়াবাড়ি কিছু হবে না। কারণ কুইন্টন ডি কক, এইডেন মার্করাম, হেইনরেখ ক্লাসেনদের মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান যেমন আছে দক্ষিণ আফ্রিকার, তেমনি আছে কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি কিংবা কেশভ মহারাজের মতো বোলাররা। তারাই নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়েই পাল্লাটা নিজেদের দিকে ভারী করে নিয়েছেন। যদিও নিজেদের সবশেষ সিরিজটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছে প্রোটিয়ারা। ঐ সময়ে আসলে উইকেট এবং কন্ডিশন বোঝার চেষ্টা করেছেন তারা। পাশাপাশি ছিলেন না সিনিয়র ক্রিকেটাররাও। বিশ্বকাপে কেমন করে সেটাই দেখার অপেক্ষা।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার অস্ত্রাগারে মজুদ আছেন খোদ সেনাপতি ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। বিশ্বকাপের আগে তারা টানা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ে, ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তান ও মার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা সিরিজ জিতেছে। সবগুলোতেই তারা ২-১ ব্যবধানে জয়ের দেখা পেয়েছে। তবে উভয় দলে সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো কারোরই নেই ইনজুরির ভয়। আইপিএলে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া দিলশান মাধুশাঙ্কা ফিরেছেন। বিরতির পর দক্ষিণ আফ্রিকার সিনিয়র ক্রিকেটাররাও মাঠে ফিরবেন। সবাই আছেন ফর্মের শীর্ষে।
তাদের নিয়ে শুরু হতে যাওয়া লড়াইয়ে এক্স ফ্যাক্টর অবশ্য হতে পারে উইকেট। অস্ট্রেলিয়া থেকে নিয়ে আসা এসব উইকেটের ধরন নিয়ে এখনো রয়েছে শঙ্কা। তবে নাসাউতে বাংলাদেশ-ভারতের গা গরমের ম্যাচে দেখা গেছে স্পোর্টিং উইকেটের আচরণই। তাই যে সুবিধা আদায় করে নিতে পারবে, জয়টা তার পক্ষ হয়েই কথা বলবে।
