বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নির্বাচনে জিতেই ২৭ লাখে কেনা জমির রেজিস্ট্রি দেড় লাখে

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে এলাকায় নিজ নামে ৩.৩ শতাংশ জমি কিনেন। এই জমি তিনি ২৭ লাখ টাকায় কিনলেও রেজিস্ট্রিতে জমিটির মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র দেড় লাখ টাকা।

জমিটি বিক্রি করেছেন পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী মো. আবুল কালাম।

জানা যায়, পাটুয়াভাঙ্গা-৬৯ মৌজার এই জায়গাটি সাফ-কবলা দলিল হিসেবে গত ৩ মার্চ পাকুন্দিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি হয়। দলিলটির নম্বর ৭৯২/২৪। দলিলদাতা মো. আবুল কালাম কান্দা শ্রেণির জায়গাটি অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন এমপির কাছে ২৭ লাখ টাকায় বিক্রি করলেও দলিলে জায়গাটির মূল্য দেখানো হয়েছে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌজা দর পদ্ধতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রকৃত ক্রয়মূল্য গোপন করে কম মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন এমপি সোহ্রাব। যে দামে জমি বেচাকেনা হয়েছে, সে দামে জমির দলিল রেজিস্ট্রি না হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ শুল্ক ও আয় কর থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, পাটুয়াভাঙ্গা দরগাবাজার এলাকার এই জায়গাটিসহ মোট ৪৪ শতাংশ জায়গা আগে থেকেই লিজ নিয়ে সেখানে মেসার্স সাইফ অটো শোরুম অ্যান্ড সাজিদ ব্যাটারি হাউজ ও মেসার্স সাইফ অটো ওয়ার্কসপ কারখানা নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন পাটুয়াভাঙ্গা বাগপাড়া এলাকার মো. মোজাম্মেল হক। এছাড়া জায়গার মালিক মো. আবুল কালামের কাছ থেকে আরও ২০ শতাংশ ফিসারি মো. মোজাম্মেল হক লিজ নিয়েছেন।

২০১৯ সালের পহেলা মার্চ স্ট্যাম্পে পৃথক দুটি চুক্তিনামার মাধ্যমে মো. আবুল কালামের কাছ থেকে মো. মোজাম্মেল হক ১০ বছরের জন্য ৮ লাখ ২০ হাজার টাকায় এই ৬৪ শতাংশ জায়গা লিজ নেন। গত রবিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে মো. মোজাম্মেল হক দাবি করেন, জমির মালিক মো. আবুল কালাম চুক্তি অমান্য করে তার কাছে লিজ দেওয়া জমি থেকে ৩.৩ শতাংশ ভূমি গোপনে গত ৩ মার্চ সংসদ সদস্য আলহাজ মো. সোহ্রাব উদ্দিনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।

এরপর গত ১৬ এপ্রিল মোজাম্মেল হকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাটারের ভেতর দিয়ে জোরপূর্বক ইট, বালু, রড, সিমেন্ট দিয়ে গাঁথুনি তৈরি করেছেন। এ সময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। জায়গার মালিক আবুল কালামের কাছে মোজাম্মেল হক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জায়গা বিক্রির কারণ জানতে চান। তখন তিনি বলেন, তার জায়গা তিনি বিক্রি করে দিবেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

আজ সোমবার (৪ জুন) বেলা ১টার দিকে মো. আবুল কালামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি হার্টের রোগী। চিকিৎসার জন্য ৩.৩ শতাংশ জায়গা আমি এমপি সাহেবের কাছে ২৭ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। বিষয়টি মোজাম্মেলকে জানানোর পর প্রথমে সে ঠিক আছে বললেও ঘর ভাঙার পর সে আমার নামে উকিল নোটিশ করেছে। কেন সে এমনটি করেছে বুঝিনি।

২৭ লাখ টাকায় জায়গা বিক্রি করে দলিলে দেড় লাখ টাকা লিখেছেন কেন জানতে চাইলে মো. আবুল কালাম বলেন, মৌজার দর অনুযায়ী দলিল করা হয়েছে।

জামির আইন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জমির প্রকৃত মূল্য গোপন করে তুলানামূলক কম টাকায় রেজিস্ট্রির কারণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে জমির দলিল মূল্যের বাড়তি টাকা বিক্রেতার পকেটে জমছে কালো টাকা হিসেবে। অন্যদিকে জমি কেনার নামে ক্রেতা পাচ্ছেন কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ। এর পাশাপাশি অনেকগুলো আইন ভঙ্গ হচ্ছে।

২৭ লাখ টাকায় জায়গা কিনে দলিলে দেড় লাখ টাকা উল্লেখ করার বিষয়ে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহ্রাব উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মৌজা রেটে দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে। এতে তো অসুবিধার কিছু নেই। নিয়মের বাইরে গিয়ে আমি কিছু করিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত