সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে সরকারের জারিকৃত পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। ফলে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে এসব গ্রেডে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকার যে বিধান আগে ছিল, সেটি বহাল থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। গতকাল বুধবার বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দিয়েছে। সরকারি এই পরিপত্রটির বৈধতা প্রশ্নে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে রুল দেওয়া। সেই রুলে কেন পরিপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করা হবে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল রুল যথাযথ ঘোষণা করেছে আদালত।
এদিকে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবি জানান তারা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে সরকারের ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা ওই পরিপত্রে নবম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয় এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি বাতিল করা হয়। এই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সরকারি চাকরি পদপ্রার্থী ময়মনসিংহের ফুলপুরের অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর এই পরিপত্রের বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয় হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলে হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল এ রায় হলো।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুজ্জামান জামান।
অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নবম থেকে ১৩তম কোটা বাতিল নিয়ে সরকারের ওই পরিপত্রটিকে হাইকোর্ট অবৈধ বলেছে। তাই এই গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের বিধানটি বহাল থাকবে।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুজ্জামান জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ রায়ের বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেলকে অবহিত করা হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
পুনর্বহালের প্রতিবাদে ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবি জানান তারা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ঢাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে তারা আন্দোলনের সূচনা করেন। পরে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা পুনরায় মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে গিয়ে বিক্ষোভের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। কোটা পদ্ধতি বাতিল না করা হলে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে ফের বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা কোনো দেশের স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা হতে পারে না। হাইকোর্ট শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোটা পুনর্বহালের পক্ষে রায় দিয়েছে। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই সম্মান জানায়, যারা দেশের সূর্যসন্তান। কিন্তু তাই বলে তাদের সন্তান এমনকি নাতি-নাতনিরা পরিশ্রম কম করেই কোটায় চাকরিতে যোগ দেবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।
