ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচন চতুর্থ ও শেষ ধাপে বরিশাল জেলার ৩টি উপজেলা বাবুগঞ্জ, উজিরপুর ও বানারীপাড়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হলেও কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। তাই সকল কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে প্রার্থীরা কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে ‘ভ্যান গাড়ি’। প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশ এলাকায় ‘ভ্যান গাড়ি’ দিয়ে কেন্দ্র পর্যন্ত ভোটারদের নিয়ে আসার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তারা।
বুধবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নে সবকটি কেন্দ্রে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভ্যান চালকরা তার ভ্যানের সামনে প্রার্থীদের ছবি টানিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়ে আসছেন।
রহমতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ভ্যানচালক মোহাম্মদ লিটন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছি এবং ভোট শেষ হলে আবার নিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাই।’
চাদপাশ এলাকার ভ্যানচালক মিলন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা গাড়িতে কইরা ভোটার নিয়ে আসি। তারাও আগ্রহ কইরা কেন্দ্রে আইসা ভোট দেয়। সারাদিন ধইরা ট্রিপ দেই। এতে আমাদের ১০০০ টাকা কইরা দেয়।’
ভ্যানচালক মোহাম্মদ মিজানুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা ভোট দিতে আসে তাদের ভ্যানে কইরা ভোট কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দেই। প্রার্থীরা আমাগো কেন্দ্র ভাগ কইরা দিছে। দিনের খাবার আর ১০০০ টাকা দিবে আমাগো।’
ভোটার মো. শহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীরা বাড়ি থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত আসার জন্য ‘ভ্যান গাড়ির ব্যবস্থা করে দিছে, এটা অবশ্যই সুন্দর একটা উদ্যোগ। ভোটারদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ থাকে। ভ্যানে কইরা বিনা ভাড়ায় তাদেরকে আনা নেওয়ার সুযোগ কইরা দেওয়ার কারণে আমাদের কষ্ট হইতেছে না।’
ভোটার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাড়ি থেকে ভোট কেন্দ্র দূরে ভোটারের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে না। এক্ষেত্রে ভ্যান সার্ভিসটা ভালো, তবে একটানা সার্ভিস থাকে না।’
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলার এক ভাইস-চেয়াম্যান প্রার্থী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ‘ভোটাররা যাতে কেন্দ্র পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসতে পারে সেজন্য আমার পক্ষ থেকে এলাকায় এলাকায় ভ্যান গাড়ি করে দিয়েছে।’ তবে তার দেখা দেখি অন্য প্রার্থীরাও এই কৌশল ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।’
এদিকে গতকাল চাঁদপাশা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রথম ঘণ্টায় ৫ নম্বর বুথে ৩৬৮ ভোটের মধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টায় ভোট পড়েছিল মাত্র ১টি। চাঁদপাশা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ৩ হাজার ৭৮৬ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র ৫১৯টি।
বরিশাল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান মুন্সী বলেন, ‘১২টা পর্যন্ত বাবুগঞ্জে ১৮ শতাংশ, বানারীপারায় ২১ শতাংশ এবং উজিরপুরে ২৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।’ তবে সকাল থেকে ভোট সুন্দরভাবে শুরু হয়েছে। নির্বাচনে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।