ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হকের আইফোন চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে একটি চোর চক্রের মূল হোতাসহ ৯ জনকে। সারা দেশে এই চক্রটির ৮০টি গ্রুপ আছে বলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ (উত্তর)। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
গত ৩০ এপ্রিল জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মোশাররফগঞ্জে জানাজা নামাজ পড়তে গিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হকের পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি চুরি হয়। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নেমে চোরকে শনাক্ত করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ (উত্তর)। তদন্তের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে কয়েক হাত ঘুরে আইফোনটি চলে গেছে মালয়েশিয়ায়। আইফোনটি দেড় মাস পর মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আনা হয়।
ডিএমপি ডিবি প্রধান জানান, মোবাইল চোর চক্রটি রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, সরকারি/বেসরকারি অনুষ্ঠান, বিভিন্ন হাটবাজার, জানাজার নামাজসহ জনসমাবেশস্থলে টার্গেট করে চুরি করে। এ চক্রটি অন্তত ১০ হাজার মোবাইল ফোন চুরি করেছে।
হারুন অর রশীদ বলেন, চক্রের কোনো সদস্য চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে অন্য সদস্যরা ভুক্তভোগীকে ঘিরে রেখে তাদের সদস্যদের পালাতে সাহায্য করে। ঢাকাসহ সারা দেশে এই চক্রের ৮০টি গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় জাকির হোসেন। সে ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলো মাসুদ শরীফ, জিয়াউল মোল্লা জিয়া, রাজিব খান মুন্না, আল আমিন মিয়া, আনোয়ার হোসেন ওরফে সোহেল, রাসেল, খোকন আলী ও বিল্লাল হোসেন। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তিনি আরও বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি বা ছিনতাই করে আনা ফোনগুলো জাকিরের কাছে জমা দেয় চক্রের সদস্যরা। জাকির দামি মোবাইলগুলো বিদেশে থাকা চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। মালয়েশিয়া, ভারত ও দুবাইয়ে তাদের সহযোগী রয়েছে। বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রথমে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন মার্কেটে থাকা চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়।
