এমিলি-মামুনুলের বাছাইয়ে ২৪ কিশোর যাবেন রিয়াল মাদ্রিদে

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪, ০৫:৫০ পিএম

বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রযুক্তি,  মোবাইল অ্যাপস হ্যালো সুপারস্টার্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের ১২ কিশোরের পূরণ হতে পারে রিয়াল মাদ্রিদে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ নেওয়ার স্বপ্ন। মালয়েশিয়ার জাতির পিতা টংকু আব্দুল রহমানের নাতি টংকু হারুন-অর-রশিদের ফুটবল একাডেমির সঙ্গে একাত্ম হয়ে হ্যালো সুপারস্টার্স নিতে যাচ্ছে এই উদ্যোগ।

সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ ক’জন সাবেক তারকা। বাংলাদেশ থেকে সার্বিক বিচার প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকবেন তিনজন। এর মধ্যে প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক ফুটবল আবদুল গাফফার। এছাড়া জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম ও জাহিদ হাসান এমিলি থাকছেন এই বিচার প্রক্রিয়ায়।

প্রতিভা অন্বেষণের শুরুর ধাপগুলো হবে ডিজিটালি। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী যে কেউ হ্যাল সুপারস্টার্স অ্যাপে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট নিবন্ধন ফি দিয়ে বল নিয়ে তাদের ৪০ সেকেন্ড দীর্ঘ কারিকুরি আপলোড করতে পারবে। সেখান থেকেই ছয় রাউন্ডের বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে মোট ২৪জন বেঁছে নেওয়া হবে।

এই ২৪ জনকে দুই দলে ভাগ করে ঢাকায় হবে একটি ম্যাচ। সেই ম্যাচ থেকে সেরা ১২জনকে আগামী বছর প্রি-সিজনে রিয়াল মাদ্রিম ইয়ুথ অ্যাকাডেমিতে দেওয়া হবে মাসব্যাপী প্রশিক্ষনের সুযোগ।

বৃহস্পতিবার এই উদ্যোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি। যেখানে তিন ফুটবল তারকা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হ্যালো সুপারস্টার্সের চিফ অপারেটিং অফিসার চিত্রনায়ক নিরব হোসেন, নির্বাহী পরিচালক গ্যাজেল মোহসেনজাদেহ। এই প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি হেড হিসেবে রয়েছেন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী আসিফ আকবর। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। 

তবে গত বছর অক্টোবরেও এই প্রতিষ্ঠানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেবারও রিয়াল মাদ্রিদে নবীণ ফুটবলারদের পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। তবে নানা কারণে সেবার উদ্যোগটা আলোর মুখ দেখেনি। এবার অবশ্য জোড়েসোড়েই আয়োজকরা চাইছে উদ্যোগটি সফল করতে।

এ প্রসঙ্গে আবদুল গাফফার বলেন, 'আমি, এমিলি, মামুন পুরোপুরি জেনে বুঝেই এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত হয়েছি। কোন ভিত্তিহীন কিংবা অস্বচ্ছ কিছুর সঙ্গে আমরা থাকবো না। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো, যারা ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলে অবদান রাখবে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে আমাদের ব্যবধান কতটুকু সেটাও এই উদ্যোগের মাধ্যমে বুঝতে পারবো।'

মালয়েশিয়ার টংকু হারুন-অর-রশিদ ফুটবল অ্যাকাডেমি সরাসরি রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে কাজ করে। সুবাদে এই উদ্যোগের স্বচ্ছ্বতা নিয়ে প্রশ্ন নেই দাবী করে নির্বাহী পরিচালক গ্যাজেল মোহসেনজাদেহ বলেন, ‘অনেকগুলো কারনে আমাদের ই-ট্যালেন্ট হান্ট প্রকল্পটি পেছাতে হয়েছে। তবে এবার আমরা চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলবো। এর মধ্যেই অ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ছয় হাজার কিশোর নিবন্ধন করেছে এবং ভিডিও পাঠিয়েছে। এই সংখ্যা আগামী ছয় মাসে আরও বাড়বে। নিবন্ধন ডেডলাইন শেষ হওয়ার পর ছয় রাউন্ডে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে আমরা সেরা ১২জনকে পাঠাবো রিয়াল মাদ্রিদে। যেটা অনেকের জন্যই স্বপ্নের মতো ব্যাপার।’

মামুনুল ইসলাম বেতিক্রমি এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘অতীতে ক্যানারি ওয়ার্ফ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ট্যালেন্ট হান্ট করে লন্ডনে বেশ ক'জন কিশোরকে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছিল। সেটা পরে আর এগোয়নি। তবে সেই ট্যালেন্ট হান্ট থেকে উঠে আসা বেশ ক'জন এখনও জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করছে।  যার মধ্যে সোহেল রানা, তপু বর্মণ। আমরা চাই এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা থাকুক। এর মধ্য দিয়ে যাতে আমরা বাংলাদেশ ও ভারত থেকে সেরা প্রতিভাদের তুলে নিতে পারি, সেদিকেই দৃষ্টি থাকবে।’

ভারত জাতীয় দলের সাবেক বেশ ক'জন ফুটবলার এই উদ্যোগে বিচারক হিসেবে কাজ করবেন। এদের অন্যতম মেহতাব হোসেন ও রহিম নবী। এছাড়া ব্রাজিল, যুক্তরাজ্যের বেশ ক'জন কোচও থাকবেন জড়িত। আগামী বছর মে-জুনে স্বপ্ন পূরণ হতে পারে ১২ কিশোরের।

গত বছর এই আয়োজন আলোর মুখ না দেখা প্রসঙ্গে এমিলি বলেন, ' বাংলাদেশ ও ভারতের সাবেক ফুটবলাররা কুমিল্লায় একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলাম হ্যালো সুপারস্টারের প্রচারণার কর্মসূচি হিসেবে। এখন আমাদের ভিডিও রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ভিডিও আপলোডের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। '

হ্যালো সুপারস্টারে নিবন্ধনের জন্য প্রত্যেককে একটা ন্যুনতাম ফি দিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য যা ১৩০ টাকা। ভারতের জন্য ১০০ রুপি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত