বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেছেন, আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রধান লক্ষ্য বলা হলেও টানা ১৪ মাস ধরে ৯ শতাংশের ওপরে থাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ প্রস্তাবিত বাজেটে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। গতকাল শনিবার বিসিআইর গণমাধ্যমে পাঠানো বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি, কর-জিডিপি অনুপাত না বাড়া ও রিজার্ভ ক্ষয় হওয়ার মতো অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য বাজেট প্রণয়ন খুবই কঠিন একটা কাজ। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, বাজেটে বর্তমান শিল্প টিকিয়ে রাখার মতো কোনো নির্দেশনা দেখতে পাচ্ছি না। দেশের শিল্প খাত বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং সময় অতিবাহিত করছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো তার ৬০-৭০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে সব প্রতিষ্ঠানের সেলস ড্রপ করেছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে নিয়মিত কিন্তু নিরবিচ্ছিন্ন সেবা পাচ্ছে না শিল্প। সরকারের সংকোচন নীতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্রাই আপ পলিসির কারণে ব্যাংকগুলো বন্ডে বিনিয়োগের দিকে উৎসাহিত হচ্ছে, আবার সরকারও ব্যাংক থেকে টাকা নিচ্ছে। ব্যাংকের উচ্চ সুদহার এবং তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিচ্ছে। নতুন বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে। এ বছর প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
তিনি বলেন, বর্তমানে শিল্পের কস্ট অব ডুইং বিজনেস বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে গেলে আমদানির বিকল্প শিল্প এবং কীভাবে কারখানাগুলোর সক্ষমতা টিকিয়ে রাখার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এর কোনো দিকনির্দেশনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
শিল্প খাতের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে বাজেট প্রস্তাবনার তুলনা করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, রপ্তানি খাতে ইপিবির তথ্য অনুসারে দেখা যাচ্ছে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক ও কাস্টমসের তথ্যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে না। বিজিএমইএ ও বিকেএমইর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রপ্তানি খাতের অবস্থা আশানুরূপ নয়।
পারভেজ বলেন, ইপিজেডের শিল্পে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একদিকে রপ্তানি আশানুরূপ বৃদ্ধি পাচ্ছে না, রেমিট্যান্সের প্রবাহ কম, রিজার্ভের স্বল্পতার মধ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে। আমরা এ প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি। আমরা রপ্তানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটা দিকনির্দেশনা আশা করেছিলাম এই বাজেটে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই শিল্প টিকিয়ে রাখার কোনো দিকনির্দেশনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
বিদ্যমান ডলারসংকট, আমদানিতে নানা ধরনের বিধিনিষেধ থাকা, বিনিয়োগ ও উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি না হওয়া সত্ত্বেও রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তুলনামূলকভাবে ভালো করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি তথা করনেট বৃদ্ধি না করে শুধু বিদ্যমান করদাতাদের করহার বৃদ্ধি করে আশানুরূপ কর জিডিপি অনুপাত অর্জন করা সম্ভব নয়।
