থানা পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ

চার দিন ছোটাছুটির পর সন্তান ফিরে পেলেন মা

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ০১:৩৬ এএম

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে চুরি যাওয়া এক নবজাতককে উদ্ধারে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরও ওই শিশুকে উদ্ধারে কোনো সহযোগিতা করেনি সিরাজদীখান থানা পুলিশ। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে চুরি যাওয়ার চার দিন পর গত শুক্রবার রাতে ওই নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার আড়াইউড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে রিপা আক্তারের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের আবদুল করিমের বিয়ে হয় প্রায় চার বছর আগে। তাদের সংসারে দুই কন্যা সন্তান জন্মের পর নয় মাস আগে আবার অন্তঃসত্ত্বা হন রিপা। কিন্তু পাঁচ মাস ধরে স্ত্রী-সন্তানের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছিলেন না আবদুল করিম। গত ১ জুন রিপা স্বামীর খোঁজে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার দানিয়াপাড়া গ্রামে ননদের বাড়িতে আসেন। পরদিন ওই বাড়িতে রিপা ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। ৩ জুন অসুস্থ রিপার একদিন বয়সী সন্তানকে চিকিৎসার কথা বলে স্বামীর বড় বোন নাজমা একই উপজেলার নিমতলা বসুমতি গ্রামে নিয়ে যান। পরে সন্তানের কথা জানতে চাইলে রিপাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং নবজাতক সন্তান মারা গেছে বলে জানান। এ ঘটনায় রিপা সিরাজদীখান থানায় নাজমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর টানা তিন দিন ধরে পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সন্তানের খোঁজ পাননি। থানা পুলিশও নানা টালবাহানা শুরু করে। কোনো উপায় না পেয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকর্মীদের দ্বারস্থ হন রিপা। পরে বিষয়টি কিশোরগঞ্জের একজন সংসদ সদস্যের মাধ্যমে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে অবশেষে থানা পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে এবং শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কেয়াইন ইউনিয়নের চালতিপড়া গ্রামের মনসুরের বাড়ি থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে।

রিপা আক্তার অভিযোগ করেন, ‘প্রথমে সিরাজদীখান থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। পরে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোখতার হোসেনের কাছে যেতে বলেন ওসি। এরপর ছুটতে হয় একজন এসআইয়ের কাছে। এমন করে একজনের পর একজন পুলিশ সদস্যের কাছে ছোটাছুটি করি। শেষমেষ সাংবাদিকরা এগিয়ে এসেছিল বলেই পুলিশ কাজ করেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে সিরাজদীখান থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. মোখতার হোসেন বলেন, ‘ওই মহিলা অভিযোগ করার জন্য ওসি সাহেবের কাছে এসেছে। তখন ওসি সাহেব এসআই সালাহউদ্দিনের কাছে দায়িত্ব দিয়েছে। আমি এ বিষয়ে আর কিছুই জানি না।’

সিরাজদীখান থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চা উদ্ধার হয়েছে এটাই তো বড় কথা। আর আমার কাছে আসেনি। ওই মহিলা থানায় অভিযোগ করেছে। আমি পরে জেনেছি। এরপর তদন্ত করে বাচ্চা উদ্ধার করে দিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত