শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শিল্প খাতের ঋণ বাধাগ্রস্ত হবে : বিজিএমইএ

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ০২:২৯ এএম

সরকার এবারের বাজেট প্রস্তাবেও ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার ঋণ চাইলে ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের চেয়ে সরকারকে ঋণ দিতেই উৎসাহী থাকবে, ফলে ব্যবসায়ীরা ঋণ পাবেন না। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ শতাংশ করারোপের ফলে সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন তারা। গতকাল শনিবার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিজিএমইএ কার্যালয়ের সভাকক্ষে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব শঙ্কার কথা জানান ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি এসএম মান্নান (কচি), বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন ও বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিন সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিএমইএ সভাপতি।

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি পূরণের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ঋণ নিলে শিল্প খাতের ঋণ বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ ব্যাংকগুলো সরকারকেই অগ্রাধিকার দেবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে হাতেম বলেন, ‘৮০ শতাংশ ব্যবসায়ী এখন আইসিইউতে আছে। সংকট মোকাবিলায় এসব শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা স্কিম চেয়েছি, বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন নেই। আর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম কর নেওয়া হলে অবশ্যই রিটার্নের ব্যবস্থা রাখা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘এ বাজেটের কিছু সিদ্ধান্তের কারণে আমরা অবশ্যই চাপে পড়ব।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি এসএম মান্নান কচি বলেন, ‘এইচএস কোডের ভুলের কারণে সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ জরিমানার বিধান বাস্তবসম্মত নয়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের হয়রানির কথা আমরা বারবার বলে আসছি, ফিল্ডের কর্মকর্তারা আমাদের বেশি হয়রানি করার ফলে আমাদের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়।’

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, দেশে তৈরি পোশাকশিল্পের ঝুট বা বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূসক (মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাট) ও তা থেকে উৎপাদিত ফাইবার সরবরাহের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ মূসক দিতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাব মতে, ঝুট থেকে বছরে ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন কেজি সুতা উৎপাদন করা সম্ভব, যার মূল্য প্রতি কেজি ৩ দশমিক ৪০ মার্কিন ডলার হিসাবে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মূসকের ফলে আমাদের দেশের রি-সাইকেল মিলগুলো এসব ঝুট ব্যবহার করে ফাইবার তৈরি করতে পারছে না।’

বিজিএমইএ সভাপতি এসএম মান্নান কচি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে প্রধান খাত তৈরি পোশাকের জন্য কিছু নীতি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আমাদের মূল প্রস্তাবগুলো প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।’

তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক কারণে সৃষ্ট বিশ্বমন্দা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশে সুদের হার বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে এসেছে। একই সঙ্গে পণ্যের দরপতন হয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় ৫ বছরে দফায় দফায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শিল্প একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল বাজেটে পোশাকশিল্পের জন্য সহায়ক কিছু নীতি সহায়তা থাকবে। বিশেষ করে উৎসে কর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং এটিকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে আমাদের গভীর প্রত্যাশা ছিল।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত