শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগে গ্রি এসি রপ্তানি হবে

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০১:০৭ এএম

দেশে এসির বাজার এখন কেমন?

সম্প্রতি গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে আমাদের দেশেও উষ্ণতা বাড়ছে। প্রতি বছরই আমাদের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি বাড়ছে। যে কারণে দিন দিন এসির চাহিদা বাড়ছে। কয়েক বছর ধরেই প্রতি বছরই এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রাহকদের কথা বিবেচনায় রেখে এবং বাজার ধরে রাখতে আমরাও তাই সাশ্রয়ী মূল্যে আরও ভালো পণ্য ও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। বর্তমান অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে ও পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে এসির বাজার ভালো।

এবার গরমে এসির চাহিদা কেমন বেড়েছে। আপনারা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

কয়েক বছর ধরেই এসির ব্যবহার বার্ষিক ৭-১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। গ্রাহকদের কথা বিবেচনায় রেখে এবং বাজার ধরে রাখতে আমরাও তাই সাশ্রয়ী মূল্যে আরও ভালো পণ্য ও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তীব্র তাপপ্রবাহের সময় অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় ফিটিংজনিত কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় হয়। তবে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের টিম অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা পরিচালনার মাধ্যমে সর্বদা প্রস্তুত আছে এবং সর্বোচ্চ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। 

এসি রপ্তানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন, এ ক্ষেত্রে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

বাংলাদেশে আমরা বিশ্বখ্যাত গ্রি এসি উৎপাদন করছি ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ লাগিয়ে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে দেশের চাহিদা মিটিয়ে সামনের দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসি রপ্তানি করার। এসি রপ্তানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

আমরা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ এবং অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে পণ্যটি রপ্তানি করতে পারি। সরকার বিগত কয়েক বছর ধরে এ খাতের উন্নয়নে নানা ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। বার্ষিক ভিত্তিতে সরকার ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ খাতে অব্যাহতি সুবিধা দিয়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদি সুবিধা প্রদান করায় আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের বিনিয়োগ নিয়ে চিন্তিত ও ঝুঁকির মধ্যে থাকি। এই শিল্পের অধিকাংশ কাঁচামাল ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি নির্ভর হওয়ায় ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি প্রাপ্তিতে প্রায়ই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ ছাড়া প্রতি বছর এসআরও পরিবর্তন করে নিত্যনতুন শর্ত আরোপ এবং পরিপালন বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি করায় আমাদের প্রচুর সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অন্যদিকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নতুন করে ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।

আমাদের আবেদন সরকার ভ্যাট-ট্যাক্সের এই সুবিধাকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা আবেদন করছি। তাহলে এ খাতের বাজার আরও বেশি বিকশিত হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। স্বল্পমেয়াদি নীতির কারণে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ থাকে কখন এটি পরিবর্তিত হয়ে যায়। এতে করে নতুন করে বিনিয়োগ করতে বিনিয়োগকারীরা অনেক বেশি সময় নেয়। এতে করে খাতগুলোতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আসে না। স্বল্পমেয়াদি নীতি সহায়তা খুব বেশি ফলপ্রসূ হয় না। কোনো শিল্প কারখানা করা হলে সেখান থেকে ব্রেক ইভেনে পৌঁছাতে কমপক্ষে ১০-১৫ বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। বিনিয়োগের এক বছর পর নতুন নিয়ম এলে বা নীতি পরিবর্তিত হলে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংক ঋণের দায় নিয়ে তাদের বিনিয়োগ বোঝা হয়ে ওঠে এবং একসময় শিল্প প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ বা দেউলিয়া হয়ে যায়। সেজন্য সহজে কেউ বিনিয়োগ করতে চায় না।

পাশাপাশি সরকার যদি দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে কর অব্যাহতির মতো কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয় তাহলে দেশ থেকে এসি রপ্তানি করতে পারব। চীন ও ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশে শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা-এর সুবিধা নিয়ে এ খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে সক্ষম হব। এ ছাড়া সরকারের পররাষ্ট্র নীতির মাধ্যমে বহির্বিশ্বে যোগাযোগের মাধ্যমে এই শিল্পের জন্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং সবার যৌথ প্রচেষ্টায় পরিকল্পনা অনুযায়ী এসি রপ্তানি করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন একটি শিল্প খাত সৃষ্টি হবে। তবে আমাদের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে বেশি।

নতুন কোনো প্রযুক্তির এসি এনেছেন, ফিচারগুলো কী? কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী?

আমরা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন প্রযুক্তি আমাদের পণ্যে সংযোজন করছি। আমাদের আরঅ্যান্ডডি চায়নার সঙ্গে যৌথ প্রযুক্তি শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এসিগুলো বাংলাদেশের পরিবেশ এবং গ্রাহকদের কাক্সিক্ষত প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই করে প্রস্তুত করা হয়। বাংলাদেশের ক্রেতাদের চাহিদার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গ্রি এসি উৎপাদন করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যেমন আই ফিল টেকনোলজি, যার মাধ্যমে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে পাশাপাশি কমফোর্টেবল টেম্পারেচার পাওয়ার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। যেমন বাইরে টেম্পারেচার ৪০ ডিগ্রি তাহলে আমার কমফোর্টেবল টেম্পারেচার আসলে কত এটি আমরা জানি না, যার কারণে কখনো ১৬, কখনো ১৮, কখনো ২০ এ আমরা টেম্পারেচার সেট করছি। তবে আই ফিল অপশনটি যদি চালু করা হয় সেই ক্ষেত্রে এসি অটোমেটিক রুমে টেম্পারেচারকে কমফোর্ট করে দেবে।

আমাদের রয়েছে বিশ্বের সর্বপ্রথম জি বুস্ট ইনভার্টার কম্প্রেসর, যার মাধ্যমে এসির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ লেভেলের বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। আমাদের জি বুস্ট ইনভার্টার কম্প্রেসর সমৃদ্ধ গ্রি এসিগুলো ৬৮ ডিগ্রি টেম্পারেচারেও নরমালভাবে চলবে। এ ছাড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার যেটি কোল্ড প্লাজমা প্লাস এবং হিউমিডিটি কন্ট্রোলার। এর মাধ্যমে রুমের ভেতরের বাতাসে যে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু থাকে সেগুলোকে ৯৯.৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ডিঅ্যাকটিভ করে এবং হিউমিডিটি ব্যালান্স করে। যার ফলে লং টাইম এসির মধ্যে থাকলেও শরীরের স্ক্রিন শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে, হাঁচি-কাশিজনিত সমস্যা বা কোল্ড অ্যালার্জি জাতীয় সমস্যা হয় না। বর্তমান ঢাকা সিটির ওয়েদার মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ার কারণে আমরা আমাদের এসিতে ছয় স্তরের ফিল্টার যোগ করেছি যার মাধ্যমে রুমের বাতাস থাকবে সম্পূর্ণ ৯৯.৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পিউরিফাই। এ কারণেই প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমাদের গ্রি এসি বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় ২০০টিরও অধিক দেশে বেশ সমাদৃত।

এসি দুর্ঘটনা নিয়ে এখন ক্রেতাদের একটা দুশ্চিন্তা দেখা যায়। এ রকম দুর্ঘটনা কেন হয়? এড়ানোর জন্য কী পরামর্শ দেবেন?

আসলে এসিতে কোনো বিস্ফোরণ ঘটে না। এটা একটা ভুল ধারণা যে এসি থেকে বিস্ফোরণ হয়। আমরা যখন গ্রাহকের এসি ইনস্টল করি তখন মানসম্পন্ন একসেসরিস ব্যবহার করি। তবে গ্রাহকদের বলব এসি ইনস্টেলশনের ক্ষেত্রে যেসব একসেসরিস ব্যবহার করা হয় যেমন সার্কিট, সকেট, ইলেকট্রিক কেবল, সুইচ ইত্যাদি যাতে ভালো ও মানসম্মত মানের হয়। এর ফলে সব প্রকার ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং কোনো ধরনের দুর্ঘটনা সম্ভবনা থাকে না। এ ছাড়া প্রতি বছর দুবার এসির সার্ভিসিং করা ভালো। সেই সঙ্গে এসির ফিল্টারটা মাসে অন্তত দুবার, তা না হলে অন্তত একবার পরিষ্কার করা উচিত। এটা কেউ চাইলে নিজেই পরিষ্কার করতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত