শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তর্কাতর্কি থেকেই সহকর্মীর বুকে ৩৮ রাউন্ড গুলি

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ১১:৪৪ এএম

শনিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিট। পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল কাওসার আলী রাজধানীর বারিধারায় ফিলিস্তিনি দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মনিরুলের হাতে ছিল রোস্টারের কাগজ। রোস্টারের কোনো বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে তুমুল তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে কাওসার গুলি করলে মনিরুল রাস্তায় লুুটিয়ে পড়েন। এরপরও উপর্যুপরি গুলি চালাতে থাকেন কাওসার। মিনিট-তিনেকের মধ্যেই মারা যান মনিরুল। এমনকি মনিরুলের রাইফেলটিও কাওসার তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি ভবনের পাশে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন।

মনিরুলের শরীরে ছয়টি গুলি পাওয়া গেছে। আশপাশ থেকে ৩৪টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। কাওসারের কাঁধে ঝোলানো অবস্থায় ২২ রাউন্ড গুলিসহ একটি এসএমটি নাইন মডেলের সাবমেশিনগান জব্দ করা হয়েছে। মনিরুলের কাছে থাকা ৭ দশমিক ৬২ চায়না রাইফেল ও রাইফেলের ২০ রাউন্ড গুলিসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।

কাওসারের ছোড়া গুলিতে জাপান দূতাবাসের গাড়িচালক সাজ্জাদ শেখ শাহরুক আহত হন। তার অবস্থাও সংকটাপন্ন। একটি বেসরকারি হসপিটালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন সাজ্জাদ। তার পেটে ও হাতে তিনটি গুলি লেগেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ঘটনায় নিহত মনিরুলের ভাই পুলিশ কনস্টেবল মাহবুবুল হক বাদী হয়ে কাওসারের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়েছে পুলিশ।

নিহত মনিরুলের (২৪) বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে।

আসামি মো. কাওসার আলী (৪১) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার দাড়েরপাড়া গ্রামে। কনস্টেবল কাওসারের পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। পাবনা মানসিক হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে, মর্মান্তিক এই হত্যাকান্ডে পুলিশ কর্মকর্তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। কেন একজন পুলিশ সদস্য তার সহকর্মীকে আচমকা হত্যা করলেন, এর পেছনে আর কোনো কারণে আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন।

সিসিটিভি ফুটেজে যা মিলল : ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ এসেছে দেশ রূপান্তরের হাতে। ওই ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার রাত ১১টা ৩৯ মিনিটের পর পুলিশ বক্সের সামনে কনস্টেবল কাওসার আলী ও মনিরুল হকের মধ্যে বাগ্বিতন্ডা হয়। ডিউটিখাতা নিয়ে কিছু একটা বলছিলেন তারা। একপর্যায়ে কাওসার আচমকা মনিরুলের দিকে ছুড়ে মারেন খাতাটি। এরপর পুলিশ বক্সের ভেতরে গিয়ে মনিরুলকে লক্ষ্য করে গুলি করতে শুরু করেন তিনি। এতে রাস্তার পাশে লুটিয়ে পড়েন মনিরুল। পাশেই পড়ে যান মনিরুলের অস্ত্রটিও। কিছুটা কাছাকাছি এসে আরও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন কাওসার। এরপর নিথর মনিরুলের অস্ত্রও মাটি থেকে হাতে তুলে নেন তিনি। এরপর কিছুক্ষণ নির্বিকার হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মরদেহের পাশে। পরে এলোপাতাড়ি বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন কনস্টেবল কাওসার। এতে আহত হন বাইসাইকেল আরোহী জাপান দূতাবাসের গাড়িচালক সাজ্জাদ। ওই সময় ডিপ্লোম্যাটিক জোনে কর্তব্যরত অন্য পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর কৌশলে নিরস্ত্র করে আটক করা হয় কনস্টেবল কাওসারকে। মনিরুলকে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এবং সাজ্জাদকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গেটে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কাওসারকে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের নিরাপত্তারক্ষীরা জিজ্ঞেস করেন মনিরুল কেন রাস্তায় পড়ে আছেন। তখন উত্তরে কাওসার বলেন, ‘শালা (মনিরুল) নাটক করতেছে। এমনিই রাস্তায় পড়ে আছে।’ এ কথা বলে কাওসার দূতাবাসের বিপরীত পাশের রাস্তায় চলে যান। এতে নিরাপত্তারক্ষীরা বুঝতে পারেন যে কাওসারই মনিরুলকে গুলি করেছেন। এ ঘটনার পরপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বারিধারার পুরো এলাকায়। বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই এলাকার সড়কের যান চলাচল। বাড়ানো হয় কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াট, গোয়েন্দা শাখাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাত আড়াইটার দিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ও অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণসহ সবকিছু শুনে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের আগে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি কেন ঘটেছে, সে ব্যাপারে তারা পরিষ্কার নন। তবে প্রাথমিকভাবে তিনি মনে করছেন, কোনো মানসিক চাপের কারণেই হয়তো ওই কনস্টেবল এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন কাওসারকে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত মনে হয়েছে। গম্ভীর হয়ে আছেন। তার গত ১৫ দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি যাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের সঙ্গে থেকেছেন, চলাফেরা করেছেন, তাদের সঙ্গে তদন্তকারীরা কথা বলছেন।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলছে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে কনস্টেবল মনিরুল ও কাওসারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নিজের সঙ্গে থাকা অস্ত্র দিয়ে মনিরুলকে লক্ষ্য করে উন্মাদের মতো একের পর এক গুলি ছোড়েন কাওসার।

আহত সাজ্জাদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন এক পুলিশ সদস্য আহত হয়ে পড়ে আছেন। তিনি এর কারণ জানতে এগিয়ে গেলে সেখানে থাকা কনস্টেবল তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। সেই গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন।

ডিএমপির অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, কূটনৈতিক জোনে দায়িত্ব পালনের জন্য কিছুদিন আগে পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্রাজিল থেকে এসএমটি সাবমেশিনগান আনা হয়েছিল। এই অস্ত্র দিয়ে মিনিটে ৬০০ রাউন্ড গুলি করা যায়। সেই অস্ত্র নিয়ে ওই এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। ঘটনার সময় অফিস শেষে বাড়ি ফিরছিলেন মিডিয়াকর্মী হাসান আহমেদ ও অন্য সহকর্মীরা। হাসান জানান, ফিলিস্তিনি দূতাবাসের সামনে এক পুলিশ সদস্যকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অস্ত্রধারী আরেক পুলিশ সদস্য। তারা গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে অস্ত্রধারী তাদের দিকে বন্দুক তাক করেন। এ সময় এক রাউন্ড গুলিও ছুড়েছিলেন তিনি। ভয় পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার যা বললেন : গতকাল রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোন বিষয় নিয়ে কনস্টেবল মনিরুল হকের সঙ্গে কনস্টেবল কাওসার আলীর তর্কাতর্কি হয়েছে। এর ফলেই একপর্যায়ে মনিরুলকে গুলির ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, সাময়িক উত্তেজনার কারণেই হয়তো অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে আর কোনো কিছু না।

দুই পুলিশ সদস্যের মধ্যে বিরোধ ছিল এমন তথ্য তাদের কাছে নেই উল্লেখ করে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘কাওসারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু বিরোধের কোনো তথ্য তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি অভিযুক্ত কাওসারের গত এক-দুই মাসের দায়িত্ব পালনের রেকর্ড দেখেছি। তিনি যথাযথভাবেই দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল কাওসার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। গুলি করেই তিনি হতভম্ব। এই কারণে বারবার বলছিলেন, এটা কীভাবে হয়ে গেল আমি জানি না। হয়তো তিনি বুঝতে পেরেছেন বড় অন্যায় ও অমানবিক কাজ করে ফেলেছেন। হয়তো দু-এক দিন গেলে বোঝা যাবে গুলি করার কারণ কী ছিল।’

এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পুলিশ সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাউন্সেলিংয়ের সিস্টেম নেই। আমাদের নিয়মিত ব্রিফিংগুলোয় কী করা যাবে, কী করা যাবে না; সে সম্পর্কে বলা হয়। এটাও এক ধরনের কাউন্সেলিং।’

সুরতহাল প্রতিবেদনে যা আছে : কনস্টেবল মনিরুলকে হত্যার ভয়াবহ বিবরণ উঠে এসেছে সুরতহাল প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মনিরুলের মাথার বাম পাশে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। বাম চোখে গুলিবিদ্ধ, বাম হাতের বাহুতে এবং ডান হাতে কনুইয়ের নিচে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া গলার নিচ থেকে কোমর পর্যন্ত বুকে-পিঠে ও পেটে আরও গুলির চিহ্ন রয়েছে। গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে মনিরুলের মৃত্যু হয়েছে।

মনিরুলের বাড়িতে মাতম : নিহত মনিরুলের বাড়িতে চলছে মাতম। তার চাচাতো ভাই রিয়াদ জানান, মনিরুলের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। যার বয়স ১৭ মাস। তার স্ত্রী-সন্তান ও অসুস্থ মা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। বাবা মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক স্কুলশিক্ষক ছিলেন। তিনি মারা গেছেন অনেক আগে। ২০১৮ সালে মনিরুল পুলিশে নিয়োগ পান।

৭ দিনের রিমান্ড : পুলিশ কনস্টেবল কাওসারকে গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাকিল আহাম্মদের আদালতে হাজির করা হয়। তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আবদুল মান্নাফ। শুনানির সময় বিচারক কাওসারকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি পালিয়ে যাননি কেন? তখন কাওসার আদালতকে বলেন, ‘আমি তো ডিরেক্ট মার্ডার করেছি, আমি পালাব কেন।’ পরে আদালত আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন বিচারক।

ময়নাতদন্ত : হত্যা ঘটনার পর শনিবার রাত ৪টায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানো হয় কনস্টেবল মনিরুলের মরহেদ। তবে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১৫ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ অসুস্থ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তবে মর্গের সহকারী যতন লাল ডোম জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।

কাওসারের স্ত্রী নিলুফার ভাষ্য : কাওসার আলীর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়াত আলী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গতকাল ছেলের এই ভয়ংকর অপরাধের কথা জানতে পারেন বলে কাওসারের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শনিবার রাত ৩টার দিকে স্বামীর হাতে তার সহকর্মী খুনের বিষয়টি জানান আমজাদ হোসেন নামের পুলিশের এক কর্মকর্তা। তাৎক্ষণিভাবে শ্বশুর কিছু জানাননি। তার বয়স ৮০ বছর। ছেলের এ ঘটনা জানলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। শাশুড়ি মাবিয়া খাতুনকে জানিয়েছেন নিলুফা। কাওসারের দুই সন্তান আছে। ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি পুলিশের চাকরিতে যোগ পান।

নিলুফা বলেন, ‘কাওসারের মানসিক সমস্যা ছিল। রাঙ্গামাটির বরকলে চাকরি করার সময় তিনি মানসিক সমস্যায় ভোগেন। এরপর বিভিন্ন সময় সরকারিভাবেই তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে অন্তত তিনবার চিকিৎসা করানো হয়েছিল। নিয়মিত ওষুধও সেবন করতেন। কাওসারের কাছে প্রেসক্রিপশনও আছে। কিছুদিন ধরে কাওসার খুবই কম কথা বলতেন।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত