সিলেট নগরীর মেজরটিলার চামেলিবাগ আবাসিক এলাকায় টিলা ধসে শিশু সন্তানসহ মা-বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মাটিচাপা পড়ার প্রায় ৬ ঘণ্টা পর তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- চামেলিবাগ এলাকার ২ নম্বর সড়কের ৮৯ নম্বর বাড়ির মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে করিম উদ্দিন (৩১), তার স্ত্রী শামীমা আক্তার রোজী (২৫) ও তাদের দেড় বছর বয়সী সন্তান তানিম।
আজ সোমবার (১০ জুন) প্রবল বৃষ্টিপাত চলাকালে সকাল ৬টার দিকে টিলা ধসের ঘটনা ঘটে। এরপর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনা বাহিনী দীর্ঘ প্রচেষ্টা চালিয়ে দুপুর ১২টার দিকে একে একে ৩ জনের লাশ উদ্ধার করে। টিলা ধসের ঘটনায় আহত আরও ৪ জনকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন- মাহমুদ উদ্দিন, বাবুল উদ্দিন, বাচ্চু উদ্দিন ও শফিক উদ্দিন।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম জানান, টিলার পাশে আধাপাকা বাড়িতে ওই পরিবারের লোকজন বসবাস করতেন। ভোর থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হলে সকাল ৬টার দিকে বিকট শব্দে টিলা ধসে ঘরের ওপর পড়ে। এতে পরিবারের ৭ জন লোক আটকা পড়েন। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশনের কর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। এ সময় পরিবারের ৪ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে করিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী-সন্তানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এরপর উদ্ধার কাজে যোগ দেয় সেনা বাহিনী। তারা কাজ শুরুর কিছুক্ষণ পরই ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
শাহপরাণ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ জানান, টিলা ধসে আধাপাকা ঘরের ওপর পড়ায় ওই পরিবারের সবাই চাপা পড়েন। ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানান, টিলা ধসের খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে উদ্ধার কাজে সেনা সদস্যরাও যোগ দেন। পরে ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে যুক্তরাজ্য সফরে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সোমবার সকাল ৯টার দিকে একটি ফ্লাইটে সিলেটে এসে পৌঁছেন। টিলা ধসের খবর পেয়ে বিমানবন্দর থেকেই তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ তদারকি করেন।
মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। তবে ওই এলাকার সড়ক সরু হওয়ায় উদ্ধার কাজে অত্যাধুনিক যন্ত্র সেখানে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ম্যানুয়ালি উদ্ধার কাজ চালাতে হয়েছে। তিনি টিলার পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
