মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘মরদেহ নিশ্চিত হলেই গ্রেপ্তার হতে পারেন অনেকে’

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও অনেকেই গ্রেপ্তার হতে পারেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তো এখনো বলছি সত্যের কাছাকাছি এসে গিয়েছি। মরদেহ সুনিশ্চিত হলেই আপনাদের কাছে অনেক কিছু প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ‘তদন্তটা শেষ হোক, আরো অনেকেই হয়তো গ্রেপ্তার হতে পারেন। তদন্তের আগে মনে হয় এগুলো বলা ঠিক হবে না।’

এদিকে এমপি আনার হত্যায় নেপালে আটককৃত সিয়াম হোসেন রিমান্ডে থাকা অবস্থায় কলকাতা সিআইডিকে নতুন তথ্য দিচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার তাকে নিয়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার একটি খালে অভিযান চালায় কলকাতা সিআইডি। সেখানে ঝোপের পাশ থেকে কিছু হাড়গোড় উদ্ধার করে কলকাতা সিআইডি। যেগুলো মানুষের শরীরের হাড় বলেই ধারণা করছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মাংস ও হাড়গুলো শনাক্তে ডিএনএ নমুনা দিতে এরই মধ্যে ভারতের ভিসা সংগ্রহ করেছে পরিবার।

এমপি ‍আনারের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রউফ বলেন, ‘এমপি সাহেবের কন্যা ও ভাইসহ তিনজনের ভিসা সংগ্রহ হয়েছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ডিএনএ নমুনা দিতে পরিবার ভারত যেতে পারে।’

বাংলাদেশের এমপি ভারতের মাটিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় কোন দেশে বিচার হবে সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে, এ নিয়ে সরাসরি কোন উত্তর দেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে একটি মামলা হয়েছে, সেটা হতেই হবে। মাননীয় সংসদ সদস্যের কন্যা ঢাকায় একটি মামলা করেছেন। কাজেই এ ঘটনাগুলোতে দুই দেশই সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছে।’

অন্যদিকে, এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে যাকে অভিযুক্ত করছে পুলিশ সেই আকতারুজ্জামান শাহিন এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছে বলে জানা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে, বাংলাদেশের সঙ্গে নেই। সে ক্ষেত্রে শাহিনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনার বিষয়ে ভারত সুবিধা পেতে পারে।’

প্রায় দশ দিন তল্লাশি চালানোর পর গত ২৮ই মে কলকাতার সঞ্জীভা গার্ডেনের বাড়ির সেফটিক ট্যাংক থেকে প্রায় চার কেজি ওজনের মাংস উদ্ধার করে সিআইডি। ওই বাড়িতেই মি. আজীম বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে, এখনো পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় ওই মাংস টুকরোগুলো এমপি আজীমের কি না সেটি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

এই মামলার অন্যতম আসামি সিয়াম গত সোমবার নেপালে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার তাকে কলকাতায় আনা হয়। তাকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদের পর রোববার সিয়ামকে নিয়ে তল্লাশিতে নামে কলকাতা সিআইডি।

এসময় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাশিপুর এলাকার বাগজোলা খালের ঝোপের পাশ থেকে কিছু হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। তবে এই হাড়গুলো আনারের কি না সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

এগুলো উদ্ধারের পর ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি। এগুলোকে প্রাথমিকভাবে মানুষের শরীরের হাড় হিসেবেই ধারণা করছে কলকাতা পুলিশ।

উদ্ধারের পর কলকাতার সিআইডি পুলিশ সাংবাদিকদের জানিয়েছে, তাদের ধারণা হাড়গুলো পাঁজরের খাঁচা ও হাতের হতে পারে। তবে মাথার খুলি এখনো পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটির তদন্তের পথে বড় বাধা মরদেহ শনাক্ত না হওয়া। এখন পর্যন্ত তদন্ত এগিয়েছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে। দুই দফা অভিযানে দুটি আলাদা জায়গা থেকে হাড় ও মাংস উদ্ধার হলেও সেগুলো এমপি আনারের কিনা, কিংবা আদৌ কোনো মানুষের কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেননা মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার কারণে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ যে তার সেটির একটি প্রমাণ তো লাগবে। সে জন্য ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন। তার কন্যার সাথে ম্যাচ হয় কি না দেখেই ভারত সরকারের পুলিশ আমাদেরকে জানাবে।’ যে কারণে এমপি আনারের পরিবারের সদস্যরা এরই মধ্যে ডিএনএ টেস্টের নমুনা দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত