সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জিকির করার উপকারিতা

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪, ১২:৪৭ এএম

জিকির বিশেষ ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম। কোরআন-হাদিসে জিকিরের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। নারী-পুরুষ সবাইকে অধিক পরিমাণে জিকির করতে বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণ করো।’ (সুরা আহজাব ৪১) নিয়মিত জিকিরকারী ব্যক্তি অফুরন্ত সওয়াব লাভ করেন। সাফল্য অর্জন করেন দুনিয়া ও আখেরাতে। এখানে জিকির করার নির্বাচিত ৮টি উপকারিতা উল্লেখ করা হলো।

ইমান বৃদ্ধি পায় : জিকির সব সময় করা যায়। ফরজ ইবাদাতের মতো কোনো সময় নির্ধারিত নেই। কোরআন তেলাওয়াত সর্বোত্তম জিকির। এর বদৌলতে ইমানদার নারী-পুরুষের ইমান বৃদ্ধি পায়। বর্ণিত হয়েছে, ‘প্রকৃত ইমানদার তো তারাই যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে কেঁপে ওঠে। আর আল্লাহর আয়াত যখন তাদের সামনে তেলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ইমান বৃদ্ধি পায়। তারা একমাত্র তাদের রবের ওপরে ভরসা করে।’ (সুরা আনফাল ২)

হৃদয়ে প্রশান্তি আসে : নিয়মিত জিকিরের কারণে রুহ তার খোরাক খুঁজে পায়। এতে মানসিক অস্থিরতা দূর হয়। হৃদয়ে কোমলতা ফিরে আসে। আল্লাহপাক বলেন, ‘এরা সেসব লোক যারা ইমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রেখো! আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরগুলো প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ ২৮)

সফলতা অর্জন করা যায় : আল্লাহর ওপর ভরসা করে চলা, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং সর্বদা তার জিকির করাই হলো সফলতার উপায়। সফলতার পথে হেঁটে যেতে জিকিরের কোনো বিকল্প নেই। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো এবং অবিচল থাকবে যখন কোনো দলের সম্মুখীন হও, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে।’ (সুরা আনফাল ৪৫)

ক্ষমা ও পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি : জিকিরকারী নারী-পুরুষ আল্লাহর কাছে প্রিয়। মহান আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। তাদের জন্য ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জান্নাতের অসংখ্য নেয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছেন। বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহর অধিক জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারীদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।’ (সুরা আহজাব ৩৫)

রহমত নাজিল হয় : প্রত্যেকটি জিকিরের মজলিসে ফেরেশতারা আসেন। জিকিরকারীদের ঘিরে রাখেন। তখন তাদের ওপর রহমত নাজিল হয়। রহমতের বারিধারায় সিক্ত হয় সবার জীবন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন কিছু মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করে তখন ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখেন। আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে নেয় এবং তাদের ওপর সকিনা নাজিল হয়। আর মহান আল্লাহ তার নিকটতম ফেরেশতাদের সামনে তাদের বিষয়টি উল্লেখ করেন।’ (সহিহ মুসলিম)

আরশের ছায়ায় স্থান : কেয়ামতের দিন মানুষের অবস্থা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহর আরশ ব্যতীত সূর্যের উত্তাপ থেকে বাঁচার কোনো ছায়া থাকবে না। সেই ছায়ায় জিকিরকারীরা নিরাপদে থাকতে পারবে। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, সাত ধরনের লোককে আল্লাহতায়ালা ছায়া দেবেন। তন্মধ্যে এক সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত করল। (সহিহ বুখারি)

পাপকে পুণ্যে পরিবর্তন : মহান আল্লাহ জিকিরকারী বান্দাদের গুনাহগুলো মার্জনা করেন। অনুগ্রহ করে পাপকে পুণ্য দিয়ে পরিবর্তন করে দেন। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যখন কিছু মানুষ আল্লাহর জিকিরের জন্য একত্রিত হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি একমাত্র উদ্দেশ্য হয়, তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, তোমাদের মাফ করে দেওয়া হয়েছে এবং তোমাদের গুনাহসমূহ নেকিতে পরিণত হয়েছে। (মুসনাদে আহমদ)

আজাব থেকে মুক্তি : জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা যায়। আর আল্লাহর ভালোবাসার যে আনন্দ তা অন্য কিছুতে নেই। জিকিরের শক্তি দুর্বলকে সবল করে এবং সকল বিপদাপদের মধ্যে দ্বীনের পথে সুদৃঢ় রাখতে সহায়ক হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত