সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যে কারণে গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হচ্ছে না

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৪১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রস্তাবিত ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে। তবে পরিকল্পনা পাস হলেও সহসায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হচ্ছে না। কারণ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসের প্রশাসনিক ও সামরিক সক্ষমতা নির্মূল করতে চান। তার এই দুই লক্ষ্য পূরণ না হলে তিনি যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তিতে সম্মতি দেবেন না।

অপরদিকে হামাস চায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। তারা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে যেতে সম্মত না। আর এসব দাবিতে দুই পক্ষ অনড় থাকার কারণেই এখনো চূড়ান্ত হচ্ছে না এই চুক্তি। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) টাইমস অব ইসরায়েল এই তথ্য জানিয়েছে।

খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাস চাইছে এই চুক্তির অংশ হিসেবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি ও এটি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেবে ইসরায়েল। কিন্তু ২৭ মে জো বাইডেনের উপস্থাপন করা ইসরায়েলি প্রস্তাবে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরিবর্তে সেখানে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ শুরুতে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেবে। এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়য় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে, যেটি এই চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা।

প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতির সময় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনা সফল না হলে প্রয়োজনে ছয় সপ্তাহ থেকে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো যাবে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস প্রস্তাবের এই অংশটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। 

দুই কর্মকর্তা স্বীকার করেন, হামাসের জবাবে খসড়া প্রস্তাবে আরও কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। তবে তারা দাবি করেন, সেসব পরিবর্তন তেমন বড় কিছু নয় এবং ইসরায়েল যদি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়টি মেনে নেয়, তাহলে সেগুলোরও সমাধান হয়ে যাবে। আর খসড়া চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা না হলেও এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়।

এই দুই কর্মকর্তা আরও জানান, হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে চাইছে, কারণ তাদের আশঙ্কা, প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করে কোনো এক অজুহাত দেখিয়ে আবারও যুদ্ধ শুরু করবেন নেতানিয়াহু। আর এ কারণিই স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা চাইছে।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবটিতে তিনটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে গাজায় ছয় সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি চলবে। এ সময় হামাসের হাতে বন্দী থাকা জিম্মিদের একাংশকে মুক্তি দেওয়া হবে। বিনিময়ে কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। একই সঙ্গে গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হবে এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজেদের এলাকায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে।

প্রথম ধাপে গাজার সব এলাকায় বাধাহীনভাবে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা সরবরাহের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। বাইডেনের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন গাজায় সর্বোচ্চ ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে বাকি জিম্মিদের মুক্তি দেবে হামাস। এ সময় গাজা থেকে সব ইসরায়েলি সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। আর তৃতীয় ধাপে ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত গাজার অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত