সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অফারেও বিক্রি হচ্ছে না বড় গরু

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০৯:৪০ পিএম

খুলনার জোড়াগেটে সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত পশু হাটে ২৪ মণ ওজনের গরু ‘শান্ত’ আনা হয়েছে। শান্তর দাম হাঁকানো হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। দামের সাথে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে ‘শান্ত’কে কিনলে ৯০ হাজার টাকা মূল্যের অরেকটি গরু ফ্রি পাবেন ক্রেতা। বাগেরহাট জেলার কাপড়পোড়ার খামারী মুরাদ হোসেন এমন ব্যতিক্রম অফার দিয়েও গরুটি এখনও বিক্রি করতে পারেননি।

তিনি জানান, শান্তকে নামের গরুটি চার বছর ধরে লালন পালন করেছেন। চড়া দামে খাদ্য ও ওষুধ কিনে শান্তকে খাওয়া হয়েছে। প্রতিদিন গরুটির পেছনে খরচ হয় অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ শত টাকা। অথচ হাটে বড় গরু কেনার ক্রেতাই নেই। তাই ক্রেতা আকৃষ্ট করতেই এমন অফার দেওয়া হয়েছে।

এবার ঈদে খুলনা জেলায় ১০টিরও বেশি নিয়মিত পশুর হাট বসে। এর সঙ্গে কোরবানি উপলক্ষে যুক্ত হয় আরও পাঁচটি বিশেষ হাট। তবে হাটগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ নগরীর জোড়াগেট কোরবানির পশুরহাট। খুলনা সিটি কর্পোরেশন হাটটি পরিচালনা করছে। গতবছর সপ্তাহব্যাপী এই হাটে ৬ হাজার ২০টি পশু বিক্রির করে হাসিল আদায়ের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন আয় করে ২ কোটি ২১ লাখ ৪ হাজার ৯৬২ টাকা।

শনিবার হাটটিতে গিয়ে দেখা গেছে, চাহিদার তুলনায় গরু বেশি উঠেছে। হাটে বেশি চাহিদা কিছুটা কম দামের ছোট গরুর। বিশেষ করে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দামের গরুর চাহিদা বেশি। বড় আকারের গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শোনা যায়। বিক্রেতার দাবি ক্রেতা দাম কম বলছেন। অন্যদিকে ক্রেতার দাবি করছেন বিক্রেতা দাম বেশি চাচ্ছেন।

নগরী খুলনার বানরগাতির বাসিন্দা মো. কোহিনুর ইসলাম শেখ জানান, চাহিদার তুলনায় হাটে গরুর সরবরাহ বেশি থাকলেও দাম কমছে না। অনেকেই বাজেট অনুযায়ী পছন্দমত গরু কিনতে পারছেন না। তাই অনেক ক্রেতা রবিবার অথবা সোমবারের ভোরের বাজারের জন্য অপেক্ষা করছেন।

হাটে ৮টি গরু তুলেছেন রূপসার কচতলা গ্রামের খামারী বৈকন্ঠ পাত্র। প্রতিটি গরুর ওজন ১৮ থেকে ২০ মণ। তিনি জানান, হাটে বড় গরুর ক্রেতাই নেই। হাটের সময় ফুরিয়ে আসলেও একটিও বিক্রি করতে পারেননি। দুয়েক জন দাম বলছেন। কিন্তু তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। ওই দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে। কারণ গরুর পেছনে অনেক খরচ। গো খাদ্য ও ওষুধের দাম অনেক চড়া।

পাঁচটি মাঝারী আকারের গরু হাটে এনেছেন ব্যাপারী মো. নাজিম শেখ। তিনি জানান, গ্রামের হাট থেকে ৫টি গরু কিনে এই হাটে নিয়ে এসেছেন লাভের আশায়। দুটি গরু বিক্রি করেছেন। কিন্তু দুটি গরুতে তার ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। ক্রেতা সংকট থাকায় লোকসান হলেও গরু ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

আইচগাতী ২০ মণ ওজনের ‘মেসি’ নামের গরু এনেছেন মো. রবিউল ইসলাম। গরুটির দাম হাকাচ্ছেন ৯ লাখ টাকা। দাম উঠেছে সাড়ে ৫ লাখ। ৭ লাখে গরুটি বিক্রি করতে রাজি তিনি। রবিউল ইসলাম জানান, আড়াই বছর আগে ৩ লাখ ১০ টাকা দিয়ে দুই দাঁতের এই গরুটি কেনেন তিনি। গরুটি লালন পালনে (খাবার ও ওষুধে) প্রতিদিন গড়ে ৭০০ টাকা খরচ হয়। তাই ৭ লাখের নিচে বিক্রি করলে লোকসান হবে। এই দামে বিক্রি না হলে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত