হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, ‘পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু খারাপ বাবা একটাও নেই।’ বাবা একাই একটি প্রতিষ্ঠান। বাবা মানে তপ্ত রোদে শীতল ছায়া, কঠোর শাসনের আড়ালে স্নিগ্ধ কোমল মায়া। বাবা হলেন মহানায়ক। পৃথিবীর প্রত্যেক সন্তানের কাছেই বাবা তার আদর্শ।
বাবাকে বলা হয় অভাব, অভিযোগ বা অনুযোগ। কিন্তু আরও অনেক কথাই থেকে যায়, যা বলব বলব করে কখনোই বলা হয়ে ওঠে না। ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় বলা হয়ে ওঠে না বাবার প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা কিংবা মুগ্ধতার কথা। বলতে পারি না বাবা, আপনাকে খুব ভালোবাসি।
আমার বাবা যখন ছোট তখন থেকেই পরিবারের হাল ধরতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। আমরা যখন ছোট তখন পরিশ্রম করা অব্যাহত আছে। আমাদের গাছের নার্সারি আছে। বাজারে গাছের চারা নিয়ে যাওয়ার জন্য রাত ৩টায় উঠে রেডি করতেন তারপর ফজরের আজানের আগেই গাছের চারা নিয়ে বের হয়ে যেতেন, তখন গাড়িও ছিল না, ঘাড়েই বহন করতেন। এক-দুইশ চারা ঘাড়ে বহন করে ১০-১২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বাজারে নিয়ে যেতেন। এভাবে ২০ বছর পরিশ্রম করেছেন, এখনো আগের মতোই পরিশ্রম করছেন, তবে এখন ভ্যান দিয়ে বাজারে গাছের চারা নিয়ে যান।
যখন স্কুল-কলেজে পড়তাম তখন বাবা আমাদের কাজ করতে দিতেন না। বলতেন, তোমরা পড়াশোনা করো, মানুষ হও। এখন ভার্সিটিতে পড়ি, এখনো বাবাই পরিশ্রম করেন। আমাদের কোনো কাজ করতে দেন না। আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবাদের মধ্যে একজন। কিন্তু কোনো দিন বলা হয়নি, বাবা, আপনাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।
শিক্ষার্থী, তৃতীয় বর্ষ
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা