প্রিয় বাপজান, বাবা! ছোট্ট অক্ষরের একটি শব্দ। অথচ এর গভীরতা কী বিশাল! যে মানুষটা আজীবন তার সন্তানের মাথার ওপর জীবন রক্ষাকারী ছাতা হয়ে অবস্থান করে তার নাম বাবা। নিজের বেলায় বাবারা বড্ড কিপটে হয়। তাদের জামা-জুতা কম লাগে, তাদের ব্যক্তিগত খরচ কম লাগে, তাদের নিজের জন্য শখও কম। বাবাদের অভিমানটাও কিন্তু বেশি। বেশিরভাগ বাবাই সন্তানের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে না। কাজেই বাবার তুলনায় মায়ের সঙ্গেই সন্তানের সদ্ভাব বেশি হয়। অথচ সেও চায় সন্তান তার কাছে আসুক, তাকে জড়িয়ে ধরুক, তার কাছে আবদার করুক। সন্তানকে সরাসরি ভালোবাসি না বলতে পারা বাবাকে বলছি, ভালোবাসি বাবা, অনেক অনেক ভালোবাসি।
ইতি
সপ্তর্ষি পারমিতা
গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল
ময়মনসিংহ
আব্বা, দৈহিক মৃত্যু যে হারিয়ে ফেলা না তা তুমি শিখিয়ে গিয়েছ। তোমাকে চোখে আর ছুঁয়ে না দেখার ছয়টা বছরের কান্না তোমার বুকের ভেতরে আদরে কাটানো বাইশ বছরের স্মৃতির কাছে হার মেনে গেছে। তোমার দোয়া আমার সঙ্গে এমনভাবে আছে যেন মাথার ওপর হাতটা বুলিয়ে দিচ্ছো যে কোনো আনন্দঘন আর কান্নাময় মুহূর্তে।
এ শহরের বাতাসে তোমার ঘ্রাণ। আমি প্রতিদিন তোমাকে দেখি; হাসপাতালের করিডোর, চারতলার ইসিজি যন্ত্রে ভেসে ওঠা সরলরেখা আর লিফটের সামনে রাখা স্ট্রেচারে আমার ঘুমন্ত আব্বা। এখানেই থমকে আছে জীবন, আবার এখান থেকেই তোমার সন্তানদের সাহসী পথচলা। ঘুমিয়ে থাকো, ওপরওয়ালার রহমতের ছায়ায় আবৃত থাকুক তোমার সাড়ে তিন হাত ঘর।
ইতি
বেনজীরে জাহান
শিক্ষার্থী, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিশাল, ময়মনসিংহ