সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর ও গাইবান্ধায় ঈদ উদযাপন 

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ১০:৫৬ এএম

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর ও গাইবান্ধা জেলার কয়েকটি উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করছে মুসল্লিরা। রবিবার (১৬ জুন) মাদারীপুরের পাঁচ উপজেলার ৩০ গ্রাম ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় কয়েকটি গ্রামের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ শেষে পশু কোরবানি করছেন। তারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উদযাপন করে আসছেন।  

মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধির তথ্যমতে, মাদারীপুরের জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান ও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদারীপুর সদর উপজেলার তাল্লুক গ্রামের চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। এ জামাতে ইমামতি করেন ইদ্রিস আলী। জামাত শেষে দেশবাসীর জন্য শান্তি কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেন মুসল্লিরা।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচ খোলা ইউনিয়নের চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, কাতলা, তাল্লুক, খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, কুনিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর, কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, হোসনাবাদ, ছিলারচর ইউনিয়নের রগুনাথপুর, আংগুলকাটা, হাজামবাড়ী, সাহেবরামপুর ইউনিয়নের আন্ডারচর, কয়ারিয়া, বাহেরচর, কেরানীরবাটসহ ৩০ গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ মঙ্গলবার ঈদুল আযহা উদযাপন করছে।

মুরিদরা জানায় 'ইসলাম ধর্মের সবকিছুই মক্কা শরিফ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে।  সুরেশ্বর দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা শাহ্ সুরেশ্বরী (র.) এর অনুসারীরা ১৪৬ বৎসর পূর্ব থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উদযাপন করে আসছেন।  তাই সুরেশ্বর দরবার শরিফের মুরিদরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করে। 

এদিকে সৌদিআরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করেছে কয়েকটি গ্রামের কিছু মুসল্লি। দেশের প্রচলিত নিয়মানুসারে এলাকায় একদিন আগেই ঈদ পালন করায় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। 

রবিবার (১৬ জুন ) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে জেলার সহিহ হাদিস সম্প্রদায়ের মুসল্লিরা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মধ্যপাড়ার আহলে হাদিস জামে মসজিদের ভেতরে এ ঈদের  নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজে ইমামতি ও  খুৎবা পাঠ করেন হাফেজ মশিউর রহমান।

সকাল থেকেই জেলার সদর উপজেলার,পলাশবাড়ী ও  সাদুল্লাপুর উপজেলার  বিভিন্ন এলাকা থেকে হেঁটে,বাইসাইকেল ,মোটরসাইকেল নিয়ে তালুক ঘোড়াবান্ধা মধ্যপাড়ায় জড়ো হতে থাকেন। বাহিরে বৃষ্টির কারণে তারা মসজিদের ভেতরে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার নামাজ আদায় করেন।

ঈদের জামাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশুসহ  ২৫-৩০ জন  মুসুল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসুল্লিরা যথা নিয়মে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেন।  নামাজ শেষে তারা পশু কুরবানি দেন। 

নামাজে আসা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের রুঘুনাথপুর গ্রামের সাদেকুল ইসলাম (৪৫) একই ইউপির দুর্গাপুর গ্রামের আব্বাস আলী আকন্দ (২৩) বলেন সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ পড়তেই আজ সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে এখানে আসছি । সবাই মিলে ঈদ-উল-আজহার আদায় করলাম। এভাবেই নয় বছর ধরে ঈদ ও কোরবানি  করে আসছি।

পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের রেজওয়ান আকন্দ (২৫) বলেন,  দীর্ঘ নয় বছর ধরে আমার গ্রামে আমি ও আমার পরিবার মিলে সৌদির সাথে মিল রেখে নামাজ আদায় করি। 

একই উপজেলার তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামের শাহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামের ৮-১০ টি পরিবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছি।  তবে আগামিকাল কোরবানি করবো।

পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম মোকছেদ চৌধুরী বলেন, সৌদিআরবের সঙ্গে মিল রেখে দীর্ঘদিন থেকে তারা ঈদ উদযাপন করে আসছে। 

এদিকে একদিন আগে ঈদ পালনে অপ্রীতিকর যে কোনো ঘটনা প্রতিরোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত