চট্টগ্রামে হাটে ক্রেতা কম, বিক্রি শেষ এগ্রোতে

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

চট্টগ্রামে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে পশুর হাট। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই হতাশা বাড়ছে দূরদূরান্ত থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারি ও খামারিদের মধ্যে। কারণ,হাটে আশানুরূপ ক্রেতার দেখা মিলছে না।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাটে শত শত গরু নিয়ে অপেক্ষা করলেও কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি হচ্ছে না পশু।দামের আশায় বিক্রেতারা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দাম চাচ্ছেন।

এদিকে অনলাইনে বা আগাম বুকিংয়ের মাধ্যমে এগ্রো খামারগুলোর বেশিরভাগই অধিকাংশ পশু বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

রবিবার (২৪ মে) নগরের একাধিক হাট ও এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা গেছে, হাটগুলোতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু নিয়ে আসছেন ব্যাপারীরা। হাটে প্রচুর গরু উঠলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। যারা আসছেন, তাদের বেশিরভাগই দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন।

বিক্রেতাদের অভিযোগ,পশু পালন করতে গিয়ে খাবার, ওষুধ ও শ্রমিক খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে গরুর দাম কিছুটা বেশি চাওয়া হলেও ক্রেতারা সেই দাম দিতে আগ্রহী নন।

নগরীর নূর নগর হাউজিং সোসাইটির এক কিলোমিটার হাটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে আসা বেপারি আবদুল কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৮টা গরু নিয়ে হাটে দুইদিন ধরে আছি। নিজের মানুষদের খরচ সঙ্গে গরুর খরচ সবই হচ্ছে কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না। মানুষ দাম শুনেই চলে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাও অনেক কম।

একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেন সাগরিকা গরু বাজারের ব্যাপারী শফিকেরও। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, রাজশাহী থেকে মাঝারি মানের ২১টি গরু নিয়ে আসলাম। খামারে এক বছর ধরে গরু লালন-পালন করেছি। খাবারের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী দাম পাচ্ছি না। এখন কম দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে। ক্রেতাকে দাম বললে আর কোনো উত্তর না দিয়েই চলে যাচ্ছে।

এশিয়ান এগ্রোর লম্বা শিং ওয়াল গরু। ছবি: প্রতিনিধি

সাগরিকা হাটে গরু কিনতে আসেন ক্রেতা মাহমুদ জানান, দীর্ঘক্ষণ হাটে ঘুরে ক্রয়সীমার মধ্যে গরু না পেয়ে অন্য হাটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বাজারে অনেক গরু আছে কিন্তু কি কারণে ব্যাপারিরা এতো দাম চাচ্ছেন তা বুঝতে পারছি না। গত বছর যে গরু কিনতে খরচ হয় এক লাখ বিশ হাজার টাকা। এবার একই বা কাছাকাছি মানের গরুতে চাচ্ছে দেড় থেকে দুই লাখেরও বেশি। চাইলেই তো বাজেট বাড়িয়ে কিনতে পারি না।

তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন এগ্রো খামারিরা। বিশেষ করে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আগাম বুকিং নিয়েছেন, তারা ঈদের আগেই অধিকাংশ পশু বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন। খামারিরা বলছেন, এখন অনেক ক্রেতাই হাটের ভিড় এড়িয়ে সরাসরি খামার থেকে পশু কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

চট্টগ্রামের চৌধুরী র‍্যাঞ্চের স্বত্বাধিকারী রাশেদ মোহাম্মদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা ১৩৩টি নানা সাইজের গরু বিক্রির জন্য তুলেছিলাম আমাদের এগ্রোতে। আলহামদুল্লিলাহ ১২৬টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। এবার সাধারণ মানুষ হাটে গিয়ে গরুর যে দাম পাচ্ছেন সেখান থেকে অনেক কম মূল্যে আমরা দাম চাচ্ছি। যার কারণে সাধারণ মানুষ আগে ভাগেই এগ্রো থেকে গরু নিয়েছেন।

এশিয়ান এগ্রোর ম্যানেজার রায়হান বলেন, এবছর আমরা ২৫০টি কুরবানি যোগ্য গরু তুলেছিলাম এবং ৯৫ শতাংশ গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আমাদের গরুগুলোর দাম সহনীয় থাকায় ক্রেতারা কেউই খালি হাতে ফেরত যাননি।

সাইফা নামের এক ক্রেতা বলেন, হাটে আসলে নারীদের যাওয়ার মত পরিবেশ না থাকায় আমরা প্রতিবার এগ্রো থেকেই গরু নিয়ে থাকি। এতে সুবিধা হয় দেখে শুনে নেয়া যায় আর কুরবানির এক দিনে আগে তারা ডেলিভারি করে বাসায়।

মুরাদপুরের এক খামারি বলেন, আমরা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে গরুর ছবি ও ভিডিও আপলোড করেছি। সেখান থেকেই অনেক অর্ডার এসেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে। হাটে নেওয়ার প্রয়োজনই হয়নি।

এক কিলোমিটার হাটের ইজারাদার ছোটন বলেন, আমাদের হাটে পর্যাপ্ত গরু আছে। দুই একদিনের মধ্যেই বেচাকেনা বৃদ্ধি পাবে। আশেপাশে এলাকাভিত্তিক হাট বসায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পরছেন। আমরা প্রশাসনকে বলেছি এইসব অবৈধ হাটের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানান, চলতি বছর চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা আট লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন যা হয়েছে তাতে আমাদের ৩৫ হাজার ৫২০টি গরু, মহিষ ও ছাগল ভেড়ার ঘাটতি আছে। যে পশু মজুদ আছে সেটা চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য যথেষ্ট। যেটুকু ঘাটতি আছে সেটা পূরণে তিন পার্বত্য জেলা ও কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরের জেলাগুলো থেকে পশু আসবে। ফলে শেষ পর্যন্ত পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। দেশে চাহিদার চেয়ে পশু বেশি আছে। গো খাদ্যের দাম বাড়তিসহ নানা সমস্যায় চট্টগ্রাম জেলায় ৩০০ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি হবে না।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত