বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঈদে বাড়ি যেতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ০১:১৫ পিএম

একদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ ও গ্রীষ্মের লম্বা ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগ করে নিতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই বাড়ি ফিরেছেন। তবে প্রতিবারের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেই ঈদ করবেন কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী। তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঈদ শেষেই হয়তো কারও গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস, কারও-বা অ্যাসাইনমেন্ট, ফাইনাল পরীক্ষা ইত্যাদি। এসব ঝামেলায় ক্যাম্পাসে থেকে যেতে হয় অনেককে। ক্যাম্পাসে অবস্থান করা সহপাঠীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এবারের ঈদে হলে অবস্থান করছেন। এসব শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে হল প্রশাসন।

ঢাবি প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায়, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও করে দেওয়া হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ছাত্রদের ঈদের দিন সকালে ও দুপুরে খাবার দেওয়া হবে। সকালে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেমাই খাওয়ানো হবে এবং দুপুরের খাবারের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের সময় হলে অবস্থান করা প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীর জন্য হল এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ আয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন কারণে হলে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে তাদের বিষয়টি আমরা সবসময় বিবেচনা করি। থাকার সুবিধা রাখার পাশাপাশি ঈদের দিন তাদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে খাবারেরও আয়োজন করে থাকি।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বাড়ি যেতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদের দিন ঢাকায় ও ছাত্রী হলে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করাবে প্রশাসন। এর জন্য ৫টি খাসির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ঈদে ঢাকায় অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হবে। হলের শিক্ষার্থীদের এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের তালিকা করতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি। সে অনুযায়ী তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য ক্যাম্পাসে হল প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নানান আয়োজন থাকে বলে জানা গেছে। দিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ঈদের জামাত:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় পবিত্র ঈদুল আজহার দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় ঈদের প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের প্রধান খতিব ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র মুয়াজ্জিন এমডি এ জলিল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদে সকাল ৭টায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল লনে সকাল ৮টায় এবং ঈশা খাঁ আবাসিক এলাকার মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বুয়েটের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুয়েটে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে। যদি কোনো কারণে খোলা মাঠে নামাজের জামাতের ওপর সরকারি বিধিনিষেধ জারি করা হয় বা আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সেক্ষেত্রে খেলার মাঠের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে, বায়তুস সালাম মসজিদে সকাল ৭টায় এবং আজাদ আবাসিক এলাকা মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটি মসজিদ, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ও বিশমাইল স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে ইদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অন্যান্য ক্যাম্পাসগুলোতেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত