বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঈদে ফাঁকা ক্যাম্পাসের অতন্দ্র প্রহরী তারা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ০১:১৪ পিএম

রাত পোহালেই ঈদের আনন্দ। এরই মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সোমবার (১৭ জুন) উদযাপিত হবে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল আযহা। পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে ইতিমধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যে ক্যাম্পাস সর্বত্রই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ছিল মুখর, ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে সে ক্যাম্পাসের সবখানে নেমে এসেছে নীরবতা। এই ফাঁকা ক্যাম্পাসেও দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরীরা। যেন দায়িত্বের কাছে হার মেনেছে তাদের ঈদ আনন্দ।

কারো কাছে মামা, কারো কাছে ভাই আবার কারো কাছে আঙ্কেল নামে পরিচিত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গার্ড ও আনসাররা। সর্বক্ষণ দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ক্যাম্পাসকে আগলে রাখছেন তারা। দায়িত্ব পালনে নেই বিন্দুমাত্র অবহেলা। ঈদে ক্যাম্পাস শূন্য হয়ে যেন তাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়ে যায়। পরিবারের সাথে ঈদ করতে না পারার দুঃখ থাকলেও নীরবে-নিভৃতে, হাসিমুখে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা এক ঈদে যারা বাড়ি ফিরবে, অন্য ঈদে তারা ফিরতে পারবে না। একজন রোজার ঈদে ছুটি পেলে কোরবানির ঈদে ছুটি পাবেন না। সে বাস্তবতা মেনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত নিরাপত্তাকর্মী সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে প্রায় শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী ঈদে ছুটি পাননি। এছাড়া টিএসসি, কার্জন হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টেও বেশ কয়েকজন কর্মচারী ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পরিবার ছেড়ে ক্যাম্পাসেই ঈদ কাটাবেন তারা। ঈদের দিন তাদের জন্য বিশেষ আয়োজনও করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন। এ নিয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের গার্ড শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাড়িতে তো ফিরতে মন চায় কিন্তু আমাদের দায়িত্বের জায়গা থেকে সেটা হয়ে উঠে না। আমাদের দায়িত্ব তো পালন করতে হবে। এই ফাঁকা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের কাঁধে। তাই ঈদের আনন্দ এখানেই খুঁজে নিতে হবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জনের অধিক আনসার সদস্য ঈদে ছুটি পাননি। ক্যাম্পাস পাহারার দায়িত্ব তাদের। কথা হলো আনসার সদস্য মামুনের সঙ্গে। হতাশ মুখে তিনি বললেন, সবাই বাড়িতে গেলে ক্যাম্পাস পাহারা দিবে কে। পরিবারের সবাই মন খারাপ করলেও কিছু করার নেই। প্রত্যেক ঈদে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালন তো করতে হবে, এই দায়িত্ব পালন করেই পরিবারের মুখে হাসি ফুটাই।

বাবুল শেখ ১৩ বছর ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীর কাজ করছেন। এবারের ঈদে ছুটি পাননি তাই ক্যাম্পাসেই ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে না পারাটা আসলেই কষ্টের। সবারই তো পরিবার থাকে। সবারই তো সখ আল্লাদ থাকে। এ বিষয়টা আমি বলে প্রকাশ করতে পারব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনের স্বার্থে কিছু করার থাকে না আমাদের।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী আনসার আরিফ ক্যাম্পাসে ঈদ উদযাপনের অনুভূতি জানতে চাইলে বলেন, বাড়ি থেকে ছেলে মেয়েরা ফোন করছে বাড়ি যেতে, কান্নাকাটি করছে। কিন্তু তাদের কিভাবে বুঝায় আনি যে দায়িত্ব পালন করছি। এই দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়া সম্ভব না। এই দায়িত্ব পালন করতে হবে জেনেই চাকরি নিয়েছি। তবে ঈদের পর বাড়ি গিয়ে ঘুরে আসব। এখানে আমার কয়েকজন সহকর্মী আছে তাদের সঙ্গে আশাকরি ঈদ ভালো কাটবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদে সব নিরাপত্তাকর্মীকে ছুটি দেওয়া সম্ভব হয় না। কেননা ফাঁকা ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অঘটন ঘটতে পারে। তাই সর্বদা আমাদের সতর্ক থাকতে হয়। তাদের কষ্ট হয় সেটা আমরাও বুঝি। কিন্তু এই বাস্তবতা তো সবাইকে মানতে হয়। আমরা তাদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছি এবং ঈদের দিন তাদের জন্য বিশেষ আয়োজন রেখেছি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত