অবৈধ সম্পদ অর্জনের যে তথ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জ্ঞাত আয়ের বাইরে এবং আমার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কোনো সম্পদ আমার বা আমার পরিবারের নেই।’
অভিযোগ ওঠার পরে সস্ত্রীক বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার খবর মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘মূলত হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য, ডাক্তারের পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী আমি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে এসেছি। চিকিৎসা শেষে আমি আগামী ২২ জুন দেশে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশে এসে এসব অপপ্রচারের জবাব দেব ইনশাআল্লাহ।’
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য বেরিয়ে আসার পর এ নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ পেল।
গত ১৬ জুন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় এবং পরে আরও কয়েকটি পত্রিকায় আছাদুজ্জামানের ‘বিপুল সম্পদের’ তথ্য তুলে ধরা হয়।
‘মিয়া সাহেবের যত সম্পদ’ শিরোনামে মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাড়ির পর বাড়ি। জমি এবং ফ্ল্যাটের সারি। কী নেই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান মিয়ার। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তবে শুধু নিজের নামে নয়। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের নামেও বিপুল সম্পত্তি গড়েছেন ডিএমপির সাবেক এই কমিশনার।’
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুলিশের সাবেক এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬৭ শতক জমি রয়েছে। এই তিন জেলায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে আরও ১৬৬ শতক জমি।’
আছাদুজ্জামান মিয়া অবৈধ উপায়ে এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে দুদক ‘তদন্তে নামতে পারে’ বলেও প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুগান্তরসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
তবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য মিথ্যা উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৫ বছর ডিএমপি কমিশনার ছিলাম। কোনো ধরনের দুর্নীতি করিনি। একটি মহল বিদেশ থেকে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিলকে তাল বানাচ্ছে। পাশাপাশি দেশে থাকা একটি চক্রও এ ঘটনায় জড়িত। ওই চক্রগুলো আবার রটাচ্ছে আমি নাকি বিদেশে পালিয়ে এসেছি। অথচ সাত-আট দিন আগে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর এসেছি।’
ডিএমপির সাবেক কমিশনার বলেন, ‘আমি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে দু-একটি মিডিয়া খবর প্রকাশ করেছে, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর আমি সস্ত্রীক বিদেশে পালিয়ে এসেছি যা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে দু-একটি মিডিয়ায় অবৈধ সম্পদ অর্জনের যে খবর প্রকাশ করেছে সেটি অসত্য, বানোয়াট, অতিরঞ্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত একটি চিহ্নিত মহল দেশের বাইরে থেকে এবং দেশের ভেতরে থেকে এ ধরনের অপপ্রচার করছে আমাকে হেয় করার জন্য। সামাজিকভাবে আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য। তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আক্রোশমূলক এ ধরনের হীন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।’
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমি সম্মানিত মিডিয়াকর্মী ভাইদের কাছে অনুরোধ করব আমার এবং আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুণœ হয় এ ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অপপ্রচার থেকে সবাই বিরত থাকবেন। সবচেয়ে লম্বা সময় আমি ডিএমপি কমিশনার ছিলাম। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার তাই করার চেষ্টা করেছি। কখনো দুর্নীতির সঙ্গে আপস করিনি।’
আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।
