সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলছে জোরে-শোরে। যেকোনো দিন নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও দলের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। এদিকে নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতোন গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহী নেতাদের অনুসারীরাও এই দৌঁড়ঝাপে অংশ নিচ্ছেন। সদ্য বিলুপ্ত যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেছে।
যুবদলের নতুন কমিটির সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মামুন হাসান, সহসভাপতি নূরুল ইসলাম নয়ন, জাকির হোসেন সিদ্দিকী, ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, সাবেক সদস্য (যুগ্ম সম্পাদক মর্যাদা) সাঈদ ইকবাল টিটু। এদিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে অক্টোবরে রাজিব আহসানকে সভাপতি এবং আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বিগত দিনে যুবদলের নতুন কমিটিতে আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদককে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে এমনটা হবে বলে আশাবাদী মোনায়েম মুন্নার সমর্থকরা। তারা বলেন, বিগত দিনে দলের মধ্যে একটা প্র্যাকটিস হয়ে আসছে যে ভেঙে দেওয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদককে সভাপতি করা হয়েছে। বিলুপ্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করা টুকু আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এবারও তেমনটি হবে বলে আমরা আশা করছি।’
এ বিষয়ে যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর আমি সংগঠনের জন্য কাজ করেছি। কাজ করতে গিয়ে জেল খেটেছি। এখন দল আমাকে দায়িত্ব দিলে আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবো।’
বিলুপ্ত কমিটির সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন ও জাকির হোসেন সিদ্দিকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে যেকোনো দিন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্ব দিলে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করবো।’
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় থাকা আকরামুল হাসান মিন্টুর কমিটিতে থাকা একাধিক সাবেক ছাত্রদল নেতা তাকে নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আকরাম ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় সারাদেশে ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করেছেন। এবার যুবদলের নতুন কমিটিতে তাকে সাধারণ সম্পাদক করলে সারাদেশে যুবদলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করতে পারবেন। সারাদেশে তার বিপুল সংখ্যক অনুসারী রয়েছে। সারাদেশে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের দিয়ে যুবদলকে শক্তিশালী করতে পারবেন।’
টুকুর নেতৃত্বাধীন যুবদলের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আসার আলোচনায় থাকা ও বিএনপিতে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া রাজশাহী বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগে আগ্রহ থাকলেও এখন আর আমি উৎসাহী নই। কারণ আমি এখন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবো। তবে সারাদেশে পরিচিতি আছে এমন নেতাদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হলে সংগঠন শক্তিশালী হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদ্য বিলুপ্ত এক যুবদল নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বাধীন যুবদল কমিটি ছিল সফল কমিটি। এরপর তেমন কমিটি আর হয়নি। সর্বশেষ যুবদলের যে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে তাতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করা টুকু ছাড়া অন্যদের যুবদলের মতো কমিটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা ছিলো না। এরপরও তাদের নতুন কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হলে তারা কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন যাদেরকে দায়িত্ব দেবেন তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করবো।’
কোরবানির ঈদের আগে ১৩ জুন মধ্যরাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করার কথা জানানো হয়। ২০২২ সালের ২২ মে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্যের আংশিক কমিটি দেয় বিএনপি। ৯ মাস পর ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী যুবদলের ২৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়।
