বন্যায় ক্ষয়ক্ষতিতে সরকারের উদাসীনতা বিস্ময়কর : রিজভী

আপডেট : ২১ জুন ২০২৪, ০৬:৫০ এএম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, উজানের ঢল প্রবল গতিতে নেমে আসায় সৃষ্ট বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বহু মানুষের বসতবাড়ি, ক্ষেতখামার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তলিয়ে গেছে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ ও ক্ষেতের ফসল। প্রতি বছর বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রচ- তা-বে সরকারের উদাসীনতা বিস্ময়কর, সরকারের ভুল নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে আজ বন্যা উপদ্রুত মানুষদের। এসব অঞ্চলে বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীদের বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান রিজভী।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও ময়মনসিংহ বিভাগে বন্যায় লাখ লাখ দুর্গত মানুষের করুণ অবস্থা তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, পাহাড়ি ঢল ও মেঘ-ভাঙা বৃষ্টিতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে বন্যা ধ্বংসের তাণ্ডব চালাচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সিলেটের হাওর উন্নয়নের নামে চলছে অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড। নদীতে বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার কারণেই বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই অঞ্চলে প্রতি বছর বন্যা হওয়ার পরও আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি সরকার।

তিনি বলেন, ঈদের আনন্দকেও বাকশালীকরণ করা হয়েছে। ঈদের দিন মানুষ হত্যার উন্মাদনার মধ্য দিয়েই আওয়ামী ক্যাডাররা উৎসব পালন করছে। কোরবানির পশুর চামড়া এবার বিক্রি হয়নি। আড়তদাররা কোরবানির চামড়া ফিরিয়ে দিয়েছে। এটাও সিন্ডিকেটবাজদের কারসাজি। গরিবের হক বঞ্চিত করে একচেটিয়াকরণ করার জন্যই দেশের কোরবানির চামড়া সিন্ডিকেটওয়ালারা কৌশলে মূল্যহীন করেছে। প্রশাসনের নির্ধারিত দামেও চামড়া কেনেনি আড়তদাররা। কোরবানির চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখন মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গতকালও পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১১ জন মারা গেছে। কিন্তু সরকার তাদের নিজ দেশে ফেরাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। তাদের নাগরিক হিসেবে নিজ দেশে ফেরাতে মিয়ানমারকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত