স্বাস্থ্যকর্মী নিতে ইচ্ছুক দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তিতে সহায়তা করবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আপডেট : ২১ জুন ২০২৪, ০৬:৫৩ এএম

বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্যকর্মী নিতে ইচ্ছুক দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শ্রম চুক্তি সম্পাদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ ওয়ার্কফোর্স ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। ১৮ জুন জেনেভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানার সঙ্গে এক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক জিম ক্যাম্পবেল।

বৈঠকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশে^র বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় বিদেশে স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়।

বৈঠকে জিএম ক্যাম্পবেল প্রবাসী স্বাস্থ্যকর্মীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাকরণ, নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজীকরণ প্রভৃতি সম্পর্কিত আলোচনায় অংশ নিতে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে আঞ্চলিক ডায়ালগ শুরু হতে পারে বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা ১৯ জুন ফ্রান্সের অ্যানেসিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল টাস্ক ফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের (জিটিএফসিসি) ১১তম সভায় কিনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন। সভায় তিনি কলেরা রোগ নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ অগ্রযাত্রা এবং সাফল্য তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাইমারি হেলথ কেয়ার কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা অভিযান প্রভৃতি কলেরার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এবং এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে অর্জিত সাফল্য অব্যাহত রাখা কষ্টকর হবে বলেও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

ডা. রোকেয়া সুলতানা জিটিএফসিসির সহযোগিতায় প্রণীত জাতীয় কলেরা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ২০১৯-২০৩০-এর ওপর আলোকপাত করে বলেন, কলেরা নির্মূল করার জন্য নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অতিগুরুত্বপূর্ণ বিধায় বর্তমান সরকার এসব সম্পর্কিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের বিষয়ে জোর দিচ্ছে।

সভায় বিশে^র কলেরা ঝুঁকিপ্রবণ অঞ্চল এবং দেশগুলোর জন্য নিচের চারটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

এর মধ্যে রয়েছে প্রথমত, কলেরা নিয়ন্ত্রণে মৌলিক চালিকাশক্তি হিসেবে নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি অবকাঠামো নির্মাণ; দ্বিতীয়ত, ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন তৈরিতে বাংলাদেশ এবং আফ্রিকার দেশগুলোয় সাহায্য প্রদান; তৃতীয়ত, কলেরার প্রার্দুভাব দ্রুত শনাক্তকরণ এবং তা নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ; চতুর্থত, কোথাও কলেরার প্রাদুর্ভাব হলে তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানাতে রাষ্ট্রগুলোকে উদ্বুদ্ধকরণে ‘বাণিজ্য ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা’র পরিবর্তে বৈশ্বিক সংহতি ও সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি করা।

সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কলেরা নিয়ন্ত্রণে চলমান উদ্যোগকে আরও বেগবান করতে আগামী আগস্টে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় সভায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত