কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএনডিসি) অধীন পাহাড়ি একটি ছড়াকে কাগজে-কলমে খাল দেখিয়ে খননের কাজ চলছে। এর আওতায় ২ কিলোমিটার খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বটতলী থেকে মাস্টার পাড়া পর্যন্ত বিএডিসির বাস্তবায়নে পাহাড়ি নোনাছড়ি ছড়াকে কাগজে-কলমে খাল দেখিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের শুরু থেকে স্থানীয়রা অনিয়মের অভিযোগ করলেও বিএডিসি’র কর্মকর্তারা অনিয়ম রোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। স্কেভেটার মেশিন দিয়ে দৈনিক ৭/৮ ঘণ্টা করে গত ১৫ দিন ধরে ছড়া থেকে মাটি উত্তোলন করে কৃষি জমিতে রাখা হচ্ছে এবং কিছু কিছু অংশে স্থানীয় কৃষকের ফসলি জমি খনন করে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা বাধা দিলেও বিএডিসি’র কর্মকর্তারা কথা শুনছে না। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা বিএডিসি’র কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, স্থানীয় একাধিক কৃষকের নামীয় খতিয়ানভূক্ত দুই ফসলি কৃষি জমি ধ্বংস করে সীমানা চিহ্নিতকরণ ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবেই বিএডিসি’র প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ কিংবা জমি অধিগ্রহণ না করেই স্কেভেটার মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির মাটি। পাহাড়ি একটি ছড়াকে কাগজে-কলমে খাল দেখিয়ে খননের নামে একাধিক অসহায় কৃষকের জমি থেকে মাটি কাটছে বিএডিসি নিযুক্ত ঠিকাদার। আর কাজটি ঠিকাদারের পক্ষে বাস্তবায়ন করছেন স্থানীয় টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী।
তবে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ম-কানুন মেনেই খাল খনন করা হচ্ছে। প্রকল্প শুরুর পূর্বে কোনো কৃষক অভিযোগ করেনি। এখন কাজ শুরু করলে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক তাদের খতিয়ানভুক্ত কৃষি জমি কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। কৃষকদের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে।
পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বকসুমোড়া গ্রামের মরহুম আকতার কামালের পুত্র কৃষক আবু সুফিয়ান মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, টইটং ইউনিয়নের বটতলী মৌজার বিএস খতিয়ান নং ২০৮ এর বিএস দাগ নম্বর ৬৩৬, ৬৩৭, ৬৪০, ৬৪৫, ৬৪৬, ৬৪৭ এবং বিএস খতিয়ান নং ২০ এর বিএস দাগ ৭৫১, ৭৫২, ৭৫৪, ৭৫৫, ৭৫৬, ৭৫৭,৭৫৮, ৭৫৯, ৭৬১, ৭৬৪, ৭৬৫ আরো অন্যান্য খতিয়ান ও দাগের কৃষি জমির মালিক ও কৃষকদের ক্ষতিপূরণ না দিয়েই বিএডিসি জোরপূর্বক খাল খনন করছে।
তিনি আরো বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিএডিসি এসব নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই অন্যায়ভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় আমাদের মতো গরিব কৃষকদের জমি কেটে নষ্ট করে দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণও পাননি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ছড়া থেকে মাটি তুলে এনে খালের দুই পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে বাঁধ। ভরাট করা হচ্ছে ফসলি জমি। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে কৃষকদের ওপর জুলুম করছে। কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না।
তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এলাকার কোনো কৃষকের জমি ক্ষতিগ্রস্ত করে খাল খনন করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী শাহ কিবরিয়া মাহবুব তন্ময়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টেন্ডার শিডিউল অনুযায়ী খাল খনন করা হচ্ছে। মাটি রাখতে হচ্ছে মানুষের জমিতে। এ কারণে কৃষিজমির কিছুটা ক্ষতি হলেও আমার তো কৃষির উন্নয়য়নের জন্য খাল খনন করছি।
আমাদের লটে এত কোয়ালিটি প্লেয়ার নাই: জাভেদ ওমর বেলিম
স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে যা করলেন স্বামী
রবিবার থেকে চালু হচ্ছে মৈত্রী এক্সপ্রেস
খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’, দোয়া চাইলেন মির্জা ফখরুল