দুদকে হাজির হননি বেনজীর লিখিত বক্তব্যে নির্দোষ দাবি

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪, ০২:১৪ এএম

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হননি। গতকাল রবিবার তার দুদকে হাজির হয়ে সম্পদ অর্জনের বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তিনি হাজির না হয়ে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত বক্তব্য পাঠান। গত বৃহস্পতিবার আইনজীবীর মাধ্যমে এ লিখিত বক্তব্য পাঠানো হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেছেন, তার নিজের ও পরিবারের নামে যেসব সম্পদ রয়েছে, তা বৈধ পন্থায় অর্জন করা হয়েছে। এসব সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ডপত্র তার কাছে রয়েছে।

গতকাল বিকেলে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার জন্য ২৩ জুন তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তিনি যথাসময়ে উপস্থিত হবেন কি না, সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানাননি বা অবগত করেননি। তিনি অফিস সময়ের মধ্যে দুদকে উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্য না দিলে অনুসন্ধান টিম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। আজ সোমবার তার স্ত্রী ও কন্যাদের উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুসন্ধানকারী টিম নোটিস দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারাও যদি উপস্থিত না হন, তাহলে তাদের বিষয়েও অনুসন্ধান টিম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

বেনজীর লিখিত বক্তব্যে কী বলেছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, তিনি লিখিত বক্তব্যে যা লিখেছেন তার অনুসন্ধান টিম বলতে পারবে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদ দেশে নাকি বিদেশে আছেন, সেটা জানা নেই। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন। সেটা অনুসন্ধান টিমের কাছে রয়েছে, দুদক টিম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

দুদকের তথ্যমতে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জিজ্ঞসাবাদের জন্য বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানকে গত ২৮ মে নোটিস দেয় দুদক। নোটিসে বেনজীর আহমেদকে ৬ জুন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানকে ৯ জুন দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য বলা হয়। কিন্তু বেনজীর আহমেদ দুদকে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। দুদক ওই আবেদনের ভিত্তিতে তাকে ২৩ জুন হাজির হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করে। কিন্তু তিনি গতকাল দুদকে হাজির হননি।

দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেনজীর আহমেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করলেন না। তিনি একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। তার লিখিত বক্তব্যের সঙ্গে যদি সব ধরনের রেকর্ড সংযুক্ত থাকে, তাহলে সেটি অনুসন্ধান টিম বিবেচনায় নেবে। আর যদি রেকর্ডপত্র না থাকে, তাহলে লিখিত বক্তব্যের অফিশিয়ালি কোনো মূল্য নেই।

দুদকের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, বেনজীর আহমেদ লিখিত যে জবাব দিয়েছেন, তাতে নিজের দোষ স্বীকার করেননি। তার নিজের ও পরিবারের নামে যেসব সম্পদ রয়েছে, সেগুলো তারা বৈধভাবে অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন। দুদক আইন অনুযায়ী বেনজীর ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস জারির দেওয়ার বিধান রয়েছে। আবার উচ্চ আদালতের একটি রায়ের অবজারভেশনে বলা হয়েছে, দুদকের অনুসন্ধান টিম যদি মনে করে তাদের কাছে মামলা করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তাহলে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস জারি করার প্রয়োজন নেই। দুদকের অনুসন্ধান টিমের কাছে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তারা সম্পদ বিবরণীর নোটিস জারি ছাড়াই মামলার সুপারিশ তুলে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারে। কমিশন যদি মামলার সুপারিশ অনুমোদন দেয় তাহলে মামলা হবে। আর যদি সম্পদ বিবরণীর নোটিস জারির নির্দেশ দেয়, তাহলে সম্পদ বিবরণীর নোটিস জারি করা হবে।

দুদকের তথ্যমতে, চলতি বছর ৩১ মার্চ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর কমিশন গত ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নিয়ামুল হাসান গাজী ও জয়নাল আবেদীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত