পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের মতো তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ডাকে সাড়া দেননি। অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার দুদকে হাজির হওয়ার কথা ছিল তাদের। এর আগের দিন রবিবার হাজির হওয়ার কথা থাকলেও আইনজীবীর মাধ্যমে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠান বেনজীর আহমেদ। সেখানে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
প্রশ্ন উঠেছে দুদকের তলবে হাজির না হওয়ায় এবার বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদক বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির না হয়ে বেনজীর এবং তাঁর পরিবারের তিন সদস্য মূলত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারিয়েছেন। তাদের পাঠানো লিখিত বক্তব্য বেনজীর আহমেদের আবেদনের সঙ্গেই গত বৃহস্পতিবার জমা দেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান টিম কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান টিম তাদের প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে পারবে।
জানা গেছে, দুদকের আইনে সময় চেয়ে দ্বিতীয়বার আবেদনের সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে শিগগিরই তাঁর ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ পাঠানো হবে। এরপর ২১ কর্মদিবস এবং পরে সময়ের আবেদন করলে আরো ১৫ কর্মদিবস সময় পাবেন তিনি। তবে বিদেশে অবস্থান করায় বেনজীর যেমন দুদকের নোটিশ গ্রহণ করতে পারবেন না, তেমনি দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতেও ব্যর্থ হবেন।
সম্পদ বিবরণী দাখিল না করলে দুটি মামলা করা হবে। দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার জন্য হবে ‘নন-সাবমিশন’ মামলা, আর বেনজীর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের যেসব অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে আরেকটি ‘অবৈধ (জ্ঞাত আয়বহির্ভূত) সম্পদ অর্জনের’ মামলা করা হবে। কমিশনের অনুসন্ধানকারী দল তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। দুদক আইনে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ১০ বছর এবং নন-সাবমিশন মামলায় তিন বছরের সাজার বিধান রয়েছে।
বেনজীরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে দুদক
বেনজীরের ইকো পার্ক থেকে কত টাকা আয় হয়েছে?
বেনজীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে 